দিনভর কাজের ব্যস্ততা, মানসিক চাপ ও শারীরিক ক্লান্তির পর রাতে শরীর বিশ্রাম চায়। অনেকেই ঘুমানোর আগে হাত-মুখ ধোয়া বা ত্বকের যত্ন নিলেও পা ধোয়ার অভ্যাসকে তেমন গুরুত্ব দেন না। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে পা পরিষ্কার করা শরীর ও মনের জন্য নানা উপকার বয়ে আনতে পারে।
মানবদেহের পুরো ওজন বহন করে পা। সারাদিন হাঁটা, দাঁড়িয়ে থাকা কিংবা কাজ করার কারণে পায়ের ওপর উল্লেখযোগ্য চাপ পড়ে। পায়ের ভেতরে থাকা অসংখ্য স্নায়ুপ্রান্ত ও আকুপ্রেসার পয়েন্ট শরীরের বিভিন্ন অংশের সঙ্গে সম্পর্কিত। ফলে পায়ের যত্ন নেওয়া পুরো শরীরের সুস্থতার সঙ্গেও জড়িত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘুমানোর আগে পা ধোয়ার ফলে শরীরের তাপমাত্রা সামান্য কমে যায়। এতে মস্তিষ্ক ঘুমের জন্য প্রস্তুত হয় এবং মেলাটোনিন হরমোন নিঃসরণে সহায়তা পায়। ফলে দ্রুত ঘুম আসে এবং ঘুমের মানও উন্নত হতে পারে।
এ অভ্যাস মানসিক চাপ কমাতেও সহায়ক বলে মনে করা হয়। ঠান্ডা বা হালকা গরম পানির স্পর্শ পায়ের স্নায়ুগুলোকে শিথিল করে। এতে শরীরের চাপ কমে এবং মানসিক প্রশান্তি অনুভূত হয়।
পা ধোয়ার সময় হালকা ম্যাসাজ করলে রক্ত সঞ্চালনও সক্রিয় হতে পারে। দীর্ঘ সময় বসে কাজ করা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে পায়ে ফোলা বা রক্ত চলাচলজনিত সমস্যা কমাতে এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও জানান, হালকা গরম পানিতে পা ধোয়া পেশির জড়তা ও ব্যথা কমাতে সাহায্য করতে পারে। বিশেষ করে যারা রাতে পায়ে টান বা ক্র্যাম্পের সমস্যায় ভোগেন, তারা এ অভ্যাস থেকে উপকৃত হতে পারেন।
এ ছাড়া সারাদিন জুতা-মোজা ব্যবহারের কারণে পায়ে ঘাম, ব্যাকটেরিয়া ও ফাঙ্গাস জমতে পারে। নিয়মিত পা ধোয়ার মাধ্যমে জীবাণুর বিস্তার কমে, দুর্গন্ধ হ্রাস পায় এবং বিভিন্ন চর্মরোগের ঝুঁকিও কমতে পারে।
ঘুমানোর আগে সাধারণ বা হালকা গরম পানিতে পা ধোয়ার পর ভালোভাবে শুকিয়ে নেওয়ার পরামর্শ দেন বিশেষজ্ঞরা। চাইলে হালকা তেল দিয়ে ম্যাসাজও করা যেতে পারে, যা শরীরকে আরও আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি সহজ কিন্তু কার্যকর অভ্যাস, যা নিয়মিত চর্চা করলে শারীরিক স্বস্তি ও ভালো ঘুম পেতে সহায়ক হতে পারে।
সিএ/এমআর


