পবিত্র কোরআনের সুরা কাহাফে বর্ণিত গুহাবাসীদের ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে আসহাবে কাহাফ নামে পরিচিত। দীর্ঘ সময় গুহায় অবস্থান ও নিদ্রিত থাকার এই ঘটনা নিয়ে ধর্মীয় ব্যাখ্যার পাশাপাশি আধুনিক বিজ্ঞানভিত্তিক বিভিন্ন আলোচনা ও পর্যবেক্ষণও রয়েছে।
সুরা কাহাফে উল্লেখ করা হয়েছে, কয়েকজন যুবক নিজেদের বিশ্বাস রক্ষার জন্য একটি গুহায় আশ্রয় নিয়েছিলেন। পরে তারা দীর্ঘ সময় ঘুমন্ত অবস্থায় সেখানে অবস্থান করেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘুম, পরিবেশ, সূর্যালোক ও মানবদেহের কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন গবেষণার সঙ্গে কিছু মিল খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছেন গবেষক ও বিশ্লেষকরা।
বিজ্ঞানীদের একাংশের মতে, অপরিচিত পরিবেশে মানুষের মস্তিষ্ক পুরোপুরি বিশ্রামে যায় না। গবেষণায় দেখা গেছে, নতুন স্থানে ঘুমানোর সময় মস্তিষ্কের একটি অংশ সতর্ক অবস্থায় থাকতে পারে। এর ফলে সামান্য শব্দেও ঘুম ভেঙে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দেয়।
আসহাবে কাহাফের ঘটনায় কোরআনে গুহাবাসীদের কান বন্ধ করে দেওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ রয়েছে। ধর্মীয় ব্যাখ্যায় একে আল্লাহর বিশেষ অনুগ্রহ হিসেবে দেখা হয়। অন্যদিকে আধুনিক গবেষণায় গভীর ঘুমের সময় বাহ্যিক শব্দের প্রভাব এবং মস্তিষ্কের সতর্কতার বিষয়টি আলোচিত হয়েছে।
এ ঘটনায় সূর্যের অবস্থান সম্পর্কেও কোরআনে বর্ণনা রয়েছে। আয়াতে বলা হয়েছে, সূর্য উদিত ও অস্ত যাওয়ার সময় এমনভাবে আলো প্রবেশ করত যাতে গুহাবাসীরা সরাসরি তীব্র তাপের মুখোমুখি না হন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যালোক কোনো স্থানের আর্দ্রতা কমাতে, বায়ু চলাচল স্বাভাবিক রাখতে এবং ছত্রাকের বিস্তার কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে।
গুহার মতো স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে দীর্ঘ সময় অবস্থানের ক্ষেত্রে সূর্যালোক ও বায়ু চলাচল স্বাস্থ্য রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আধুনিক বিজ্ঞানও পরিবেশগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যসম্মত বায়ুপ্রবাহের গুরুত্বের ওপর জোর দেয়।
সুরা কাহাফে আরও উল্লেখ রয়েছে, গুহাবাসীদের ডান ও বাম দিকে পার্শ্ব পরিবর্তন করানো হতো। চিকিৎসাবিজ্ঞানে দীর্ঘ সময় একই ভঙ্গিতে শুয়ে থাকলে শরীরের নির্দিষ্ট অংশে অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হতে পারে বলে উল্লেখ করা হয়। অবস্থান পরিবর্তন রক্ত সঞ্চালন স্বাভাবিক রাখতে এবং শারীরিক অস্বস্তি কমাতে সহায়ক বলে মনে করা হয়।
এ ছাড়া হজম, শ্বাস-প্রশ্বাস এবং মেরুদণ্ডের স্বাভাবিক অবস্থান বজায় রাখার ক্ষেত্রেও ঘুমের সময় দেহের ভঙ্গি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা জানান।
গুহাবাসীদের জাগ্রত হওয়ার পর উত্তম খাদ্য সংগ্রহের নির্দেশনার বিষয়টিও আলোচনায় আসে। পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার পর সতেজ ও স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ শরীরের জন্য উপকারী হতে পারে। এতে প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান সরবরাহের পাশাপাশি শরীর দ্রুত শক্তি ফিরে পেতে সহায়তা পায়।
ধর্মীয় বর্ণনা ও বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণের মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে বিভিন্ন মত থাকলেও আসহাবে কাহাফের ঘটনা যুগে যুগে মানুষকে চিন্তা ও গবেষণার নতুন দিক উন্মোচনে উৎসাহিত করেছে।
সিএ/এমআর


