জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক নিয়ে সরকারি দলের এক জ্যেষ্ঠ সংসদ সদস্যের বক্তব্যকে কেন্দ্র করে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় সংসদের কার্যক্রম সাময়িকভাবে বিঘ্নিত হয় এবং পরে ডেপুটি স্পিকার সংশ্লিষ্ট বক্তব্যের অংশ কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দেন।
রোববার সম্পূরক বাজেটের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরী জামায়াতে ইসলামীর নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক প্রসঙ্গে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যের একপর্যায়ে বিরোধীদলীয় সদস্যরা প্রতিবাদ জানিয়ে দাঁড়িয়ে যান এবং সংসদ কক্ষে হট্টগোল শুরু হয়।
বিরোধীদলীয় সদস্যদের আপত্তির মুখে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল ব্যক্তিগত স্বাধীনতা সম্পর্কিত মন্তব্য না করার আহ্বান জানান। পরে তিনি সংশ্লিষ্ট বক্তব্য কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ দিলে পরিস্থিতি কিছুটা শান্ত হয়।
আলোচনার সময় মনিরুল হক চৌধুরী অতীতের একটি ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার প্রসঙ্গ তুলে ধরেন এবং পরে বর্তমান সংসদে বিরোধীদলীয় নারী সদস্যদের পোশাক নিয়ে মন্তব্য করেন। তার বক্তব্যকে বিরোধীদলীয় সদস্যরা আপত্তিকর ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেন।
পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মনিরুল হক চৌধুরী বলেন, তিনি কাউকে ছোট করার উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেননি। এরপর তিনি জানান, তার বক্তব্যে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।
পরে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দেন বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, নারী সংসদ সদস্যদের পোশাক ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে মন্তব্য করা সংসদীয় শিষ্টাচারের পরিপন্থী। তিনি এ ধরনের বক্তব্যকে অমার্জনীয় এবং বৈষম্যমূলক আচরণ বলে উল্লেখ করেন।
ডেপুটি স্পিকার তার রুলিংয়ে বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্যদের উচিত শালীনতা ও মর্যাদা বজায় রাখা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা নিয়ে সংসদে মন্তব্য করা উচিত নয় এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের বক্তব্য পরিহারের আহ্বান জানান।
পরবর্তীতে সংসদীয় কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়। তবে বিষয়টি সংসদের ভেতরে রাজনৈতিক আলোচনা ও বিতর্কের নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
সিএ/এমআর


