গরুর মাংস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে নানা ধরনের ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, গরুর মাংস খাওয়া মানেই কোলেস্টেরল বৃদ্ধি ও হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়ানো। তবে পুষ্টিবিদরা বলছেন, পরিমিত পরিমাণে এবং সঠিক উপায়ে খেলে গরুর মাংস শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টির উৎস হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরুর মাংসে উচ্চমানের প্রোটিন, আয়রন, জিঙ্ক, সেলেনিয়াম, ফসফরাসসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খনিজ উপাদান রয়েছে। পাশাপাশি এতে ভিটামিন বি-২, বি-৩, বি-৬ এবং বি-১২ পাওয়া যায়, যা শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
পুষ্টিবিদদের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব পুষ্টি উপাদান পেশি ও হাড়ের গঠন, রক্তস্বল্পতা প্রতিরোধ, রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা বজায় রাখতে সহায়তা করে। এছাড়া স্নায়ুতন্ত্রের কার্যকারিতা ও মানসিক সুস্থতার ক্ষেত্রেও এর ভূমিকা রয়েছে।
তবে গরুর মাংস কতটুকু খাওয়া উচিত, তা নির্ভর করে বয়স, শারীরিক অবস্থা এবং দৈনন্দিন পুষ্টি চাহিদার ওপর। পুষ্টিবিদ চৌধুরী তাসনিম হাসিনের মতে, দৈনিক প্রোটিনের প্রয়োজনীয়তা মূলত ব্যক্তির ওজন অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। তবে এই চাহিদা শুধুমাত্র গরুর মাংস থেকে পূরণ করা উচিত নয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সপ্তাহে সীমিত পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়াই নিরাপদ। বিশেষ করে কোরবানির ঈদের সময় টানা কয়েকদিন অতিরিক্ত মাংস খাওয়ার প্রবণতা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। ডায়াবেটিস, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ কিংবা কিডনি রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী মাংস গ্রহণ করা উচিত।
গরুর মাংসের স্বাস্থ্যঝুঁকি কমাতে রান্নার ধরনও গুরুত্বপূর্ণ। পুষ্টিবিদদের মতে, রান্নার আগে দৃশ্যমান চর্বি কেটে ফেলা উচিত। ছোট টুকরো করে মাংস কাটা, সেদ্ধ করে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত পানি ফেলে দেওয়া এবং কম তেল ব্যবহার করে রান্না করলে ফ্যাটের পরিমাণ কমানো সম্ভব।
এছাড়া ভিনেগার, লেবুর রস বা টক দই ব্যবহার করে রান্না করলে চর্বির প্রভাব কিছুটা কমতে পারে। বিশেষজ্ঞরা ঝোলযুক্ত রান্না, গ্রিল বা কাবাব ধরনের রান্নাকে তুলনামূলক স্বাস্থ্যকর হিসেবে বিবেচনা করেন।
সবজির সঙ্গে গরুর মাংস রান্না করলে মাংসের পরিমাণ কম খাওয়া হয় এবং খাদ্যতালিকায় আঁশের পরিমাণ বাড়ে। মিষ্টি কুমড়া, লাউ, ফুলকপি, বাঁধাকপি কিংবা পেঁপের মতো সবজি এ ক্ষেত্রে ভালো বিকল্প হতে পারে।
তবে অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়ার ফলে উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, স্ট্রোক, টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা এবং অন্যান্য জটিলতার ঝুঁকি বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, স্বাস্থ্যসম্মত খাদ্যাভ্যাসের অংশ হিসেবে পরিমিত পরিমাণে গরুর মাংস খাওয়া এবং ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্যতালিকা নির্ধারণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
সূত্র: বিবিসি বাংলা
সিএ/এমআর


