বিশ্বকাপ ইতিহাসে নিজেদের বড় ব্যবধানে জয়ের ঐতিহ্য আরও একবার সামনে আনল জার্মানি। হিউস্টনে অনুষ্ঠিত গ্রুপ পর্বের ম্যাচে কুরাসাওকে ৭-১ গোলে হারিয়ে টুর্নামেন্টে দারুণ সূচনা করেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।
দুই সাম্প্রতিক বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়ের হতাশা ভুলে এবার শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলেছে জার্মানি। ম্যাচজুড়ে আধিপত্য বিস্তার করে সহজেই বড় জয় তুলে নেয় তারা।
ম্যাচের শুরুতেই আক্রমণের ঝড় তোলে জার্মানি। মাত্র ৬ মিনিটে দলকে এগিয়ে দেন মিডফিল্ডার ফেলিক্স এনমেচা। তবে পিছিয়ে পড়েও ভেঙে পড়েনি কুরাসাও। ২১ মিনিটে ইতিহাস গড়ে সমতা ফেরান লিভানো কোমেনেনসিয়া। এই গোলের মাধ্যমে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম গোলের স্বাদ নেয় দলটি।
সমতায় ফেরার পর কিছুটা আত্মবিশ্বাস ফিরে পেলেও প্রথমার্ধে আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় জার্মানি। ৩৮ মিনিটে নিকো শ্লটারবেক গোল করে দলকে এগিয়ে দেন। এরপর প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে পেনাল্টি থেকে ব্যবধান ৩-১ করেন কাই হাভার্টজ। এনমেচাকে বক্সে ফাউল করার কারণে পেনাল্টি পায় জার্মানি, আর সুযোগ কাজে লাগাতে ভুল করেননি হাভার্টজ।
দ্বিতীয়ার্ধেও একই রকম দাপট দেখায় জার্মানি। ৪৭ মিনিটে জামাল মুসিয়ালা গোল করে ব্যবধান আরও বাড়ান। এরপর একের পর এক আক্রমণে বিধ্বস্ত হয়ে পড়ে কুরাসাওয়ের রক্ষণভাগ।
৬৮ মিনিটে নাথানিয়েল ব্রাউন এবং ৭৮ মিনিটে ডেনিজ উনদাভ গোল করে স্কোরলাইন দাঁড় করান ৭-১ এ। পুরো ম্যাচজুড়ে গতি, নিয়ন্ত্রণ ও ফিনিশিংয়ে সম্পূর্ণ আধিপত্য ছিল জার্মানদের।
এই বড় জয়ের মাধ্যমে আবারও বিশ্বকাপে নিজেদের বড় ব্যবধানে জয়ের ঐতিহ্য স্মরণ করিয়ে দিল জার্মানি। এর আগে ২০১৪ বিশ্বকাপে ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে হারানোর মতো ঐতিহাসিক জয় ছিল তাদের সবচেয়ে আলোচিত পারফরম্যান্স।
অন্যদিকে বিশ্বকাপে অভিষেক ম্যাচে বড় হার পেলেও ইতিহাসে প্রথম গোলের স্মৃতি নিয়ে মাঠ ছাড়ে কুরাসাও। লিভানো কোমেনেনসিয়ার সেই গোল দলটির জন্য বিশেষ অর্জন হয়ে থাকবে।
সব মিলিয়ে বিশ্বকাপের শুরুতেই শক্ত বার্তা দিয়েছে জার্মানি, আর কুরাসাও পেয়েছে কঠিন বাস্তবতার স্বাদ।
সিএ/এমই


