রান্নাঘরের অন্যতম পরিচিত উপাদান আদা শুধু খাবারের স্বাদ ও ঘ্রাণ বাড়ায় না, বরং বিভিন্ন স্বাস্থ্য উপকারিতার কারণেও দীর্ঘদিন ধরে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। হজমে সহায়তা, সর্দি-কাশি উপশম, বমি বমি ভাব কমানো এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে আদার ভূমিকা সুপরিচিত।
তবে স্বাস্থ্যকর হলেও অতিরিক্ত আদা খাওয়া সবসময় উপকারী নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রয়োজনের তুলনায় বেশি আদা গ্রহণ করলে শরীরে নানা ধরনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
আদার মধ্যে থাকা কিছু সক্রিয় উপাদান অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে হজমতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এর ফলে বুকজ্বালা, অম্বল, গ্যাস, পেট ফাঁপা কিংবা ডায়রিয়ার মতো সমস্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কা থাকে। কিছু মানুষের ক্ষেত্রে কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্যান্য হজমজনিত সমস্যাও দেখা দিতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আদা রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়ক হলেও অতিরিক্ত গ্রহণ করলে উল্টোভাবে রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা অস্বাভাবিকভাবে কমে যেতে পারে। বিশেষ করে যারা ডায়াবেটিসের ওষুধ গ্রহণ করেন, তাদের জন্য এ ঝুঁকি আরও বেশি।
এ ছাড়া আদার একটি পরিচিত বৈশিষ্ট্য হলো এটি রক্ত পাতলা করতে সহায়তা করে। কিন্তু অতিরিক্ত আদা খেলে রক্ত জমাট বাঁধার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে। যারা ব্লাড থিনার বা রক্ত পাতলা করার ওষুধ সেবন করেন, তাদের ক্ষেত্রে এটি রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
কিছু মানুষের ক্ষেত্রে আদা অ্যালার্জির কারণও হতে পারে। দীর্ঘ সময় মুখে আদা রেখে চিবালে মুখে জ্বালাপোড়া, চুলকানি বা অস্বস্তির মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। যাদের আগে থেকেই অ্যালার্জির সমস্যা রয়েছে, তাদের এ বিষয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
চিকিৎসকদের মতে, একজন সুস্থ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের জন্য দৈনিক সর্বোচ্চ পাঁচ গ্রাম আদা গ্রহণ নিরাপদ। এর বেশি নিয়মিত খেলে উপকারের বদলে ক্ষতির সম্ভাবনাই বাড়তে পারে।
সিএ/এমআর


