কলোরেক্টাল ক্যানসার, যা কোলন বা মলদ্বারের ক্যানসার নামেও পরিচিত, বর্তমানে বিশ্বজুড়ে একটি বাড়তে থাকা স্বাস্থ্যঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তরুণ থেকে প্রবীণ, নারী-পুরুষ সবার মধ্যেই এই রোগের প্রবণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে এ রোগ নিরাময়ের সম্ভাবনা অনেক বেশি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্যানসারের প্রায় অর্ধেক ক্ষেত্রে প্রাথমিকভাবে উল্লেখযোগ্য কোনো লক্ষণ দেখা যায় না। তবে মলের সঙ্গে রক্ত যাওয়া, অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে পরিবর্তন, কোষ্ঠকাঠিন্য বা ডায়রিয়া, অকারণে ওজন কমে যাওয়া, পেটব্যথা ও অতিরিক্ত ক্লান্তি এ রোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে।
কিছু ঝুঁকিপূর্ণ কারণও রয়েছে, যেমন অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত ও চিনিযুক্ত খাবার গ্রহণ, লাল ও প্রক্রিয়াজাত মাংস খাওয়ার প্রবণতা, ধূমপান, অ্যালকোহল সেবন, স্থূলতা এবং শারীরিক ব্যায়ামের অভাব। বিশেষ করে প্রবীণ ও পুরুষদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।
রোগ নির্ণয়ের জন্য কোলনোস্কোপি বা সিগময়েডোস্কোপির মাধ্যমে অন্ত্রের সন্দেহজনক অংশ পরীক্ষা করা হয় এবং প্রয়োজনে নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ক্যানসার কতটা ছড়িয়েছে তা নির্ণয়ের জন্য সিটি স্ক্যান, এমআরআই বা অন্যান্য ইমেজিং পরীক্ষাও করা হতে পারে।
চিকিৎসার ক্ষেত্রে সার্জারি, কেমোথেরাপি, রেডিয়েশন থেরাপি এবং টার্গেটেড থেরাপিসহ বিভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। রোগের ধরন ও পর্যায়ের ওপর নির্ভর করে একাধিক পদ্ধতির সমন্বয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জীবনযাত্রায় পরিবর্তন এনে এই ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব। নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমে অংশ নেওয়া, আঁশসমৃদ্ধ খাবার খাওয়া, ধূমপান পরিহার এবং অ্যালকোহল গ্রহণ সীমিত রাখলে ঝুঁকি কমে।
সিএ/এমআর


