রাসুলুল্লাহর (সা.) পর এই উম্মতের শ্রেষ্ঠ মানুষ হিসেবে বিবেচিত হন সাহাবায়ে কেরাম। দ্বীনের প্রচার-প্রসার, ইবাদত-বন্দেগি এবং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের ক্ষেত্রে তারা ছিলেন অনুকরণীয় আদর্শ। বিশেষ করে নামাজে তাদের একাগ্রতা ও মনোযোগ আজও মুসলিমদের জন্য শিক্ষণীয় উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইসলামি বর্ণনায় এসেছে, সাহাবিদের ইমান ছিল অত্যন্ত দৃঢ় ও পরিপূর্ণ। তারা অধিকাংশ সময় আল্লাহর ইবাদতে নিমগ্ন থাকতেন। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে সাহাবিদের সম্পর্কে বলেন, “আপনি তাদের দেখবেন কখনো রুকুতে, কখনো সিজদায়, আল্লাহর অনুগ্রহ ও সন্তুষ্টি সন্ধানে রত।” (সুরা ফাতহ: ২৯)
নামাজের প্রতি সাহাবিদের গুরুত্বের বহু ঘটনা ইসলামের ইতিহাসে সংরক্ষিত রয়েছে। একবার সাহাবি আবু তালহা আনসারি (রা.) নিজের বাগানে নামাজ আদায় করছিলেন। এ সময় একটি পাখির চলাফেরা দেখে কিছুক্ষণের জন্য তার মনোযোগ সেদিকে চলে যায়। পরে তিনি বুঝতে পারেন, নামাজে তার একাগ্রতা ব্যাহত হয়েছে। এর পরপরই তিনি সেই বাগানটি আল্লাহর রাস্তায় দান করে দেন। (মুয়াত্তা ইমাম মালিক: ২১৪)
আরেকটি ঘটনায় দেখা যায়, ‘জাতুর রিকা’ যুদ্ধের সময় এক আনসারি সাহাবি পাহারারত অবস্থায় নামাজ পড়ছিলেন। এ সময় এক মুশরিক তাকে লক্ষ্য করে পরপর তিনটি তীর নিক্ষেপ করে। শরীর রক্তাক্ত হলেও তিনি নামাজ ভাঙেননি। সুরা তেলাওয়াত শেষ করে রুকু-সিজদা সম্পন্ন করার পর সঙ্গীকে জাগিয়ে বিষয়টি জানান। পরে তিনি বলেন, “আমি এমন একটি সুরা তেলাওয়াত করছিলাম, যা শেষ না করে নামাজ শেষ করতে চাইনি।” (সুনানে আবু দাউদ: ১৯৮)
রাসুলুল্লাহর (সা.) খাদেম আনাস ইবনে মালিক (রা.)-এর নামাজও ছিল অত্যন্ত দীর্ঘ ও মনোযোগপূর্ণ। রাতে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে নামাজ আদায় করতেন তিনি। পরিবারের সদস্যদেরও তাহাজ্জুদের জন্য জাগিয়ে দিতেন। ইবাদতের পরিবেশে তার ঘর সারা রাত প্রাণবন্ত থাকত বলে বিভিন্ন বর্ণনায় উল্লেখ রয়েছে।
অন্যদিকে, সাহাবি আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রা.)-এর কোরআন তেলাওয়াত শুনে রাসুলুল্লাহ (সা.) প্রশংসা করেছিলেন। একবার তার তেলাওয়াত শুনে নবীজি (সা.) বলেন, “কেউ যদি কোরআন ঠিক অবতীর্ণ হওয়ার মতো করে পড়তে চায়, তাহলে সে যেন ইবনে উম্মে আবদের মতো তেলাওয়াত করে।” (সহিহ ইবনে খুজায়মা: ২/১৮৬)
ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন, বর্তমান সময়ে নামাজে অমনোযোগিতা মুসলমানদের একটি বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। সাহাবিদের জীবন থেকে শিক্ষা নিয়ে ইখলাস ও খুশু-খুজুর সঙ্গে নামাজ আদায়ের চেষ্টা করা উচিত।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, “সফলকাম ওই সব মুমিন, যারা তাদের নামাজে খুশু-খুজু অবলম্বন করে।” (সুরা মুমিনুন: ১-২)
সিএ/এমআর


