গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রাগৈতিহাসিক কাদামাটির স্তরে শত শত পশুর পায়ের ছাপের পাশাপাশি মানুষের সাতটি পৃথক ছাপ শনাক্ত করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, সেই সময় এ অঞ্চলটি মানুষ ও বন্য প্রাণীদের চলাচলের একটি গুরুত্বপূর্ণ পথ ছিল।
২০১৭ সালে প্রবল আবহাওয়ার কারণে উপরের মাটির স্তর সরে গেলে প্রত্নতাত্ত্বিকদের নজরে আসে এসব নিদর্শন। বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানুষের ফেলে যাওয়া পায়ের ছাপ সাধারণত দ্রুত মুছে যায়। কিন্তু বিশেষ পরিবেশগত কারণে এই ছাপগুলো হাজার হাজার বছর ধরে সংরক্ষিত ছিল।
গবেষণায় উঠে এসেছে, কাদামাটির ওপর তৈরি পায়ের ছাপগুলো এমনভাবে সংরক্ষিত হয়েছিল যেন তা প্রাকৃতিক “ফিঙ্গারপ্রিন্ট” হিসেবে কাজ করেছে। গবেষকরা উল্লেখ করেন, আধুনিক মানুষের পায়ের ছাপ নিয়ে পরীক্ষায় দেখা গেছে, সাধারণত দুই দিনের মধ্যেই সূক্ষ্ম চিহ্নগুলো হারিয়ে যায় এবং চার দিনের মধ্যে সেগুলো প্রায় অচেনা হয়ে পড়ে।
বিজ্ঞানীদের ধারণা, এসব ছাপ আধুনিক মানুষের পূর্বপুরুষ হোমো সেপিয়েন্সদের। কারণ, ওই সময় আরব অঞ্চলে নিয়ান্ডারথালদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি। একই সঙ্গে পায়ের ছাপের আকারও হোমো সেপিয়েন্সদের বৈশিষ্ট্যের সঙ্গে বেশি সামঞ্জস্যপূর্ণ।
গবেষকরা বলছেন, বর্তমানের আল-আথার অঞ্চল একসময় প্রাণীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিশ্রামস্থল ছিল। জলবায়ু পরিবর্তন ও পানির সন্ধানে মানুষ ও পশুরা এ পথ ব্যবহার করত। তবে সেখানে শিকার বা স্থায়ী বসতির কোনো নিদর্শন পাওয়া যায়নি।
প্রত্নতাত্ত্বিকদের মতে, মানুষ সম্ভবত স্বল্প সময়ের জন্য ওই হ্রদ এলাকায় অবস্থান করেছিল। সুপেয় পানির খোঁজে তারা সাময়িকভাবে সেখানে আশ্রয় নেয় এবং পরে অন্যত্র চলে যায়।
গবেষণাটি প্রাচীন মানব সভ্যতার বিস্তার ও বরফ যুগের আগের জলবায়ু পরিস্থিতি বোঝার ক্ষেত্রে নতুন দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিজ্ঞানীরা।
সিএ/এমআর


