সৃজনশীলতা অনেকের কাছে জন্মগত প্রতিভা মনে হলেও আধুনিক গবেষণা বলছে, এটি অনুশীলনের মাধ্যমে ধীরে ধীরে গড়ে তোলা সম্ভব। নতুন কিছু শেখা, বিকল্পভাবে চিন্তা করা এবং নিজেকে ভিন্ন অভিজ্ঞতার মধ্যে রাখার মাধ্যমে সৃজনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে তথ্য জানার পাশাপাশি সৃজনশীলভাবে চিন্তা করার দক্ষতাও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
বর্তমান সময়ে বিভিন্ন পেশায় সৃজনশীলতার গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। গবেষকদের মতে, সৃজনশীলতা রহস্যময় কোনো জন্মগত ক্ষমতা নয়; বরং এটি এমন একটি মানসিক দক্ষতা, যা নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে বিকশিত হয়। এ জন্য কয়েকটি কার্যকর অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রথম কৌশল হলো নতুন ভাষা শেখা। গবেষণায় দেখা গেছে, একাধিক ভাষা জানা মানুষ সাধারণত নতুন ধারণা তৈরি ও সমস্যার সমাধানে তুলনামূলক বেশি দক্ষ হন। কারণ নতুন ভাষা শেখার মাধ্যমে শুধু শব্দ নয়, নতুন সংস্কৃতি, দৃষ্টিভঙ্গি ও ভাবনার ধরনও মস্তিষ্কে যুক্ত হয়। ২০২৪ সালে মনোবিজ্ঞানী সেলকুক আসকার ও তাঁর সহগবেষকেরা প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের ওপর পরিচালিত ৩৯টি গবেষণার ফল বিশ্লেষণ করে দেখেছেন, দ্বিভাষিকতা সৃজনশীল চিন্তায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
দ্বিতীয় কৌশল হলো দ্রুত কোনো সিদ্ধান্তে না পৌঁছানো। সৃজনশীল মানুষ সাধারণত একটি ঘটনার একাধিক সম্ভাব্য ব্যাখ্যা বিবেচনা করেন। কোনো একটি উত্তরকে চূড়ান্ত ধরে নেওয়ার পরিবর্তে বিভিন্ন সম্ভাবনা নিয়ে ভাবলে নতুন সমাধান ও নতুন ধারণা তৈরির সুযোগ বাড়ে।
তৃতীয় কৌশল হিসেবে বিশেষজ্ঞরা একটি সমস্যার একাধিক সমাধান খোঁজার অনুশীলনের পরামর্শ দেন। মনোবিজ্ঞানী জো পল গিলফোর্ড ১৯৫০ সালে ডাইভারজেন্ট থিঙ্কিং ধারণা উপস্থাপন করেন। তাঁর মতে, সৃজনশীল মানুষ একটি সমস্যার জন্য একাধিক সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে ভাবেন। দৈনন্দিন জীবনের সাধারণ বস্তু বা পরিস্থিতিকে ভিন্নভাবে ব্যবহার বা ব্যাখ্যা করার অনুশীলন এই দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।
চতুর্থ কৌশল হলো নিজেকে একাধিক বিষয়ে জানার সুযোগ করে দেওয়া। ইতিহাসে বহু সৃজনশীল ব্যক্তি একাধিক ক্ষেত্রে দক্ষ ছিলেন। মূল পেশার বাইরে নতুন বিষয়ে বই পড়া, নতুন শখ তৈরি করা, বিভিন্ন পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় কিংবা শিল্পচর্চার মতো কাজ মস্তিষ্ককে নতুনভাবে চিন্তা করতে সহায়তা করে।
পঞ্চম কৌশল হলো সীমাবদ্ধতাকে ইতিবাচকভাবে কাজে লাগানো। গবেষকদের মতে, অনেক সময় সীমিত সুযোগ বা সীমাবদ্ধ পরিবেশ মানুষকে নতুন সমাধান বের করতে বাধ্য করে। করোনা মহামারির সময় অনলাইন শিক্ষা, ভিডিওভিত্তিক পাঠদান কিংবা ছোট বাসার জন্য বহুমুখী আসবাবের মতো উদ্ভাবন তারই উদাহরণ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সৃজনশীলতা বাড়ানোর জন্য প্রতিদিন ছোট ছোট অনুশীলনই সবচেয়ে কার্যকর। নতুন কিছু শেখা, ভিন্নভাবে চিন্তা করা এবং পরিচিত সমস্যার নতুন সমাধান খোঁজার অভ্যাস দীর্ঘমেয়াদে ব্যক্তিগত ও পেশাগত দক্ষতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
সিএ/এমআর


