কুমিল্লার বিভিন্ন এলাকায় ঈদুল আজহার রাতে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি করতে না পেরে বিপাকে পড়েছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। মধ্যরাত পেরিয়েও আড়ৎদার না আসায় অনেকে বাধ্য হয়ে সড়কের পাশে চামড়া ফেলে বাড়ি ফিরে গেছেন। ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করছেন, আড়ৎদার ও সিন্ডিকেটের কারণে চামড়াবাজারে এমন অস্থির পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৮ মে) দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে এ তথ্য জানা যায়।
সরেজমিনে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার ছায়কোট, হারং ও এতবারপুর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, বিপুল পরিমাণ চামড়া নিয়ে অপেক্ষা করছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত তারা ক্রেতার আশায় বসে থাকলেও অনেক এলাকায় কোনো আড়ৎদার বা বড় ব্যবসায়ীর দেখা মেলেনি।
ফলে কেউ চামড়া নিয়ে আড়তে ঘুরেছেন, আবার কেউ হতাশ হয়ে সড়কের পাশে চামড়া রেখে বাড়ি ফিরে গেছেন।
ছায়কোট এলাকার মৌসুমি ব্যবসায়ী জসিম উদ্দিন বলেন, ‘আমি ৭০টি চামড়া কিনেছি। রাত ১০টা পর্যন্ত চামড়াগুলো বিক্রি করতে না পেরে আড়তে নিয়ে ঘুরছি।’
একই এলাকার আরেক ব্যবসায়ী জামাল হোসেন বলেন, ‘আমি ৩০টি চামড়া কিনেছি। রাত ২টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেও বিক্রি করতে পারিনি। পরে সড়কের পাশে ফেলে বাড়ি চলে এসেছি।’
মৌসুমি ব্যবসায়ী সেলিম মিয়া বলেন, ‘প্রতিটি চামড়া আমরা ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা করে কিনেছি। সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়ৎদাররা ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা দাম বললেও রাত ৯টার পর আর কেউ আসেনি। আমরা বাড়ি বাড়ি ঘুরে চামড়া সংগ্রহ করেছি। এখন যদি ন্যায্য দাম না পাই, তাহলে বড় ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।’
তিনি আরো বলেন, ‘মূলত আড়ৎদারদের সিন্ডিকেটের কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কেউ আর বাড়ি বাড়ি গিয়ে চামড়া সংগ্রহ করতে আগ্রহী হবে না।’
কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর কুমিল্লা মহানগরীসহ জেলার ১৭টি উপজেলায় প্রায় আড়াই লাখ পশু কোরবানি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার গভীর রাত পর্যন্ত সেই তুলনায় অর্ধেক চামড়াও সংগ্রহ করতে পারেনি আড়ৎগুলো।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা বলছেন, যথাসময়ে সংরক্ষণ ও ক্রয়ব্যবস্থা না থাকায় প্রতি বছরই চামড়া খাতে ক্ষতির মুখে পড়েন ছোট ব্যবসায়ীরা। এবারও একই পরিস্থিতিতে চরম হতাশা দেখা দিয়েছে তাদের মধ্যে।
সিএ/এমই


