পবিত্র ঈদুল আজহার দিন দেশের বিভিন্ন জেলায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় অন্তত ২২ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহীই ছিলেন ১১ জন। এছাড়া প্রাণ হারিয়েছেন শিশু, কিশোর ও বিভিন্ন বয়সী যাত্রীরা। বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, দিনাজপুর, নরসিংদী, গাইবান্ধা, পটুয়াখালী, কুষ্টিয়া, মাদারীপুর, নড়াইল ও চট্টগ্রামে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।
সবচেয়ে ভয়াবহ দুর্ঘটনাটি ঘটে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বেদগ্রাম এলাকায়। মোটরসাইকেলকে বাঁচাতে গিয়ে দোলা পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে গেলে পাঁচজন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে এক শিশু, এক নারী ও তিনজন পুরুষ রয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ২৫ জন।
পুলিশ জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন মোটরসাইকেলের আরোহী এবং বাকি তিনজন বাসের যাত্রী ছিলেন। নিহতদের মধ্যে তিনজনের পরিচয় শনাক্ত করা গেছে। তারা হলেন শয়ন ঢালী (২০), মোসা. খাদিজা খাতুন (৩৫) ও মো. সোহাগ (৩৭)। বাকি দুজনের পরিচয় জানা যায়নি।
ফরিদপুর, নরসিংদী, পটুয়াখালী, নড়াইল ও কুষ্টিয়ায় পৃথক দুর্ঘটনায় মোটরসাইকেলের নয় আরোহী নিহত হয়েছেন। পটুয়াখালীর গলাচিপায় ঈদের নামাজ শেষে ঘুরতে বের হয়ে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় প্রাণ হারায় দুই কিশোর ফয়সাল হাওলাদার (১৬) ও তামিম মাতুব্বর (১৬)।
নরসিংদীর শিবপুরে দুটি মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত হন রুমান মিয়া (২৬) ও চান মিয়া (১৯)। আহত হয়েছেন আরেক তরুণ। ফরিদপুরের ভাঙ্গায় পৃথক দুই দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন সাইফুল মোল্লা (২৫), আল ইমরান শরীফ (২৮) ও আলিমুজ্জামান মাতুব্বর (৫৫)।
নড়াইলের লোহাগড়ায় বাসের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে নিহত হন সাব্বির গাজী (১৮)। আহত হন তার সঙ্গে থাকা আরেক যুবক।
কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে অতিরিক্ত গতির কারণে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের আইলাইনারে ধাক্কা দেয় একটি মোটরসাইকেল। এতে তিন এসএসসি পরীক্ষার্থী গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা জানান, ঈদ উপলক্ষে ঘুরতে বের হয়েছিল তারা।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্রাকের পেছনে সিএনজিচালিত অটোরিকশা ধাক্কা দিলে দুই শিশু নিহত হয়। আহত হন তাদের দুই মা। নিহত শিশুরা হলো আবদুল্লাহ (৪) ও আরিফা খাতুন (৪)।
মাদারীপুরের শিবচরে ঢাকা-ভাঙ্গা এক্সপ্রেসওয়েতে চলন্ত বাস থেকে ছিটকে পড়ে সাত্তার হাওলাদার (৫৫) নিহত হন। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি হঠাৎ ব্রেক করলে খোলা দরজা দিয়ে বাইরে পড়ে যান তিনি।
গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে যাত্রীবাহী বাসচাপায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশার দুই যাত্রী নিহত হন। নিহতদের একজন স্থানীয় ছাত্রলীগ নেতা হাসান আলী প্রধান (২৬)। আহত হয়েছেন আরও একজন যুবক।
এদিকে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কে বাস ও মাহিন্দ্রার মুখোমুখি সংঘর্ষে তিনজন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। আহতদের কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছে পুলিশ।
বিভিন্ন জেলার পুলিশ ও হাইওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ঈদে ঘরমুখো মানুষের চাপ, অতিরিক্ত গতি, বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো এবং অসতর্কতার কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটেছে। বেশ কয়েকটি ঘটনায় যানবাহন জব্দ করা হয়েছে এবং আইনগত প্রক্রিয়া চলছে।
সিএ/এমই


