টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলা সদরের কুমুদিনী হাসপাতাল খেয়াঘাট এলাকায় লৌহজং নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো জোয়ারের পানির প্রবল স্রোত ও কচুরিপানার চাপে ভেঙে গেছে। এতে উপজেলার দক্ষিণাঞ্চলের অন্তত ৩৫ গ্রামের মানুষের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। রোববার (৭ ডিসেম্বর) সকাল থেকে এ ভোগান্তি শুরু হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঈদের আগে গুরুত্বপূর্ণ এই সাঁকোটি ভেঙে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ কয়েকগুণ বেড়ে গেছে। হাসপাতাল, হাটবাজার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যেতে এখন প্রায় তিন কিলোমিটার ঘুরে বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে। এতে সময় ও অতিরিক্ত অর্থ দুটিই ব্যয় হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কয়েকদিন ধরেই লৌহজং নদীতে জোয়ারের কারণে পানি বৃদ্ধি পাচ্ছিল। একই সঙ্গে উজান থেকে ভেসে আসা বিপুল পরিমাণ কচুরিপানা সাঁকোর বিভিন্ন অংশে আটকে ছিল। রোববার পানির চাপ আরও বেড়ে গেলে কচুরিপানার ভার সহ্য করতে না পেরে সাঁকোটি ভেসে যায়।
এটি প্রথমবারের মতো ঘটেনি বলেও জানিয়েছেন এলাকাবাসী। প্রতিবছর বর্ষা বা জোয়ার মৌসুমে একই স্থানে সাঁকো ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং নদীর দুই পাড়ের মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয়। দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী সেতুর দাবি জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা।
এই সাঁকো ব্যবহার করে পৌর এলাকার সাহাপাড়া, সরিষাদাইড়, আন্ধরা, পাহাড়পুড় ও ঘোষপাড়াসহ ভাওড়া, বহুরিয়া ও উয়ার্শী ইউনিয়নের অন্তত ৩৫ গ্রামের মানুষ প্রতিদিন নদী পারাপার করেন। এছাড়া কুমুদিনী হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ, নার্সিং স্কুল ও কলেজ এবং ভারতেশ্বরী হোমসের শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অনেকেই দক্ষিণ পাড়ে বসবাস করায় তারাও নিয়মিত এই পথ ব্যবহার করেন।
স্থানীয়দের ভাষ্য, সাঁকো ভেঙে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে কোনো খেয়া নৌকার ব্যবস্থাও করা হয়নি। ফলে ঈদ উপলক্ষে বাড়ি ফেরা অনেক যাত্রী কুমুদিনী ঘাটে এসে আটকা পড়েন। পরে অতিরিক্ত ভাড়া গুনে ঘুরপথে বাড়ি ফিরতে হয়েছে তাদের।
এদিকে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, নদীর এই ঘাট জেলা পরিষদ থেকে প্রতিবছর ইজারা দেওয়া হলেও গত দুই বছর ধরে তা বন্ধ রয়েছে। গত বছর স্থানীয়দের দাবির মুখে তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ বি এম আরিফুল ইসলাম এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাসুদুর রহমান পাহাড়পুর গ্রামের মোবারক হোসেন নামে এক ব্যক্তিকে খেয়া পারাপারের অনুমতি দেন। তিনি বর্ষা মৌসুমে নৌকা এবং শুকনো মৌসুমে বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করে মানুষ পারাপারের ব্যবস্থা করে আসছিলেন।
স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও কুমুদিনী খেয়াঘাট এলাকায় এখনো স্থায়ী সেতু নির্মাণ না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, প্রতিবছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ স্থায়ী সমাধানে এগিয়ে আসছে না।
আন্ধরা গ্রামের বাসিন্দা বাজলু মোল্লা বলেন, ‘মির্জাপুরের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের দুঃখ কুমুদিনী খেয়াঘাট। এই দুঃখ দূর করতে কর্তৃপক্ষকে এগিয়ে আসতে হবে।’
মির্জাপুর গ্রামের বাসিন্দা বিশ্বজিৎ সাহা বলেন, ‘বাঁশের সাকোটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। অতিরিক্ত ৮০ টাকা খরচ করে তিন কিলোমিটার ঘুরে সদরে চারবার যাতায়াত করতে হচ্ছে।’
সরিষাদাইড় গ্রামের বাসিন্দা খন্দকার আব্দুল সাত্তার বলেন, ‘সেতুর দাবিতে দীর্ঘদিন যাবত মানববন্ধন, সমাবেশ ও উপজেলা প্রশাসন ছাড়াও জেলা ও মন্ত্রণালয়ে এলাকাবাসী আবেদন করেছেন। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সেতুটি হচ্ছে না।’
মির্জাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, ‘পৌর প্রশাসকের সাথে পরামর্শ করে দ্রুত সময়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সিএ/এমই


