ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া উপজেলায় প্রায় ২০০ বছরের পুরোনো পঞ্চায়েত প্রথা অনুসরণ করে এবারও এক মাঠে কোরবানি করা হয়েছে ৮২টি গরু ও ১১৭টি খাসি। ঈদুল আজহার দিন স্থানীয়দের মিলনমেলায় পরিণত হয় বৈলাজান কোরবানির মাঠ। সম্প্রীতি, ভ্রাতৃত্ব আর সমান বণ্টনের এই আয়োজন দেখতে ভিড় করেন আশপাশের অনেক মানুষও।
ঈদের দিন সকাল থেকেই উপজেলার বৈলাজান মধ্যপাড়া গ্রামে শুরু হয় কোরবানির প্রস্তুতি। চারদিকে সবুজে ঘেরা বিশাল মাঠে একে একে আনা হয় কোরবানির পশু। কারও হাতে গরু, কারও হাতে খাসি। সকাল বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে মাঠজুড়ে তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, বৈলাজান কেন্দ্রীয় ঈদগাহ ও বৈলাজান যদু সরকার বাড়ি ঈদগাহ মাঠে সকাল ৯টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হয়। নামাজ শেষে শুরু হয় পশু মাঠে আনার কাজ। সকাল ১০টা থেকে শুরু হয় কোরবানির পশু জবাই। এরপর সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে মাংস কাটা ও বণ্টনের কার্যক্রম।
এ আয়োজনের বিশেষ দিক হলো পঞ্চায়েতভিত্তিক মাংস বণ্টন ব্যবস্থা। প্রতিটি পশু কোরবানি শেষে মাংসের তিন ভাগের এক ভাগ একত্রে জমা করা হয়। পরে স্বেচ্ছাসেবীরা সেগুলো সমানভাবে ভাগ করে সমাজের ১ হাজার ৭৬০টি খানায় পৌঁছে দেন।
পঞ্চায়েতের দায়িত্বশীলরা জানান, প্রতি ভাগে গড়ে ২ কেজি ৪০০ গ্রাম গরুর মাংস এবং ২২৫ গ্রাম খাসির মাংস দেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রমে গ্রামের তরুণ ও স্বেচ্ছাসেবীরা সক্রিয়ভাবে অংশ নেন।
স্থানীয়রা বলছেন, এই কোরবানির মাঠ শুধু পশু জবাইয়ের স্থান নয়, এটি সামাজিক বন্ধন ও পারস্পরিক সম্পর্কেরও একটি বড় কেন্দ্র। কোরবানির দিন গ্রামের প্রায় সবার সঙ্গে সবার দেখা হয়। মাঠের একপাশে বসে চুড়ি, ফিতা, খেলনা ও বিভিন্ন মনোহারি সামগ্রীর দোকান। শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে বয়স্কদের মধ্যেও থাকে উৎসবের আমেজ।
কোরবানি মাঠ পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বাবলু বলেন, প্রায় ২০০ বছর ধরে বৈলাজান মাঠে এভাবেই কোরবানি হয়ে আসছে। এ আয়োজন মানুষের মধ্যে ভ্রাতৃত্ববোধ আরও দৃঢ় করে। এবার ১১৭টি খাসি ও ৮২টি গরু কোরবানি হয়েছে এবং প্রতিটি খানায় সমানভাবে মাংস পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমই


