পবিত্র ঈদুল আজহায় নির্ধারিত সময়ের আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে রাজশাহী মহানগরী পরিচ্ছন্ন করেছে রাজশাহী সিটি করপোরেশন (রাসিক)। দ্রুততম সময়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ায় নগরবাসীর প্রশংসা কুড়িয়েছে সিটি করপোরেশন।
ঈদের দিন সকাল থেকেই মহানগরজুড়ে বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু করে রাসিক। পূর্বঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী ৬ থেকে ৮ ঘণ্টার মধ্যে নগরী পরিষ্কার করার ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। সেই লক্ষ্য নির্ধারিত সময়ের আগেই বাস্তবায়ন করা হয়।
জানা গেছে, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টা থেকে নগরীর ৩০টি ওয়ার্ডে একযোগে কোরবানির বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম শুরু হয়। পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম তদারক করতে বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি নগরীর ৯ নম্বর ওয়ার্ড ছাড়াও বুলনপুর এসটিএস, রুয়েটসংলগ্ন এসটিএস এবং রাবি এসটিএস এলাকায় চলমান কার্যক্রম ঘুরে দেখেন।
রাসিকের তথ্য অনুযায়ী, প্রায় ১ হাজার ২৭০ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মী এ কার্যক্রমে অংশ নেন। তাদের নিরলস প্রচেষ্টায় প্রতিটি ওয়ার্ড থেকে দ্রুত বর্জ্য সংগ্রহ করে ভ্যানে করে সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশনে (এসটিএস) নেওয়া হয়।
নগরীকে দুর্গন্ধমুক্ত ও স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে বর্জ্য অপসারণের পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় ব্লিচিং পাউডার ও জীবাণুনাশক ছিটানো হয়। পুরো কার্যক্রমে প্রয়োজনীয় যানবাহন, সরঞ্জাম ও জনবল সার্বক্ষণিকভাবে নিয়োজিত ছিল বলে জানিয়েছে সিটি করপোরেশন।
দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টার মধ্যেই নগরীর পাড়া-মহল্লা থেকে অধিকাংশ কোরবানির বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন হয়। পরে বিকেল ৪টা থেকে এসটিএসগুলো থেকে বর্জ্য ভাগাড়ে স্থানান্তরের কাজ শুরু হয়, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলার কথা ছিল।
এ অর্জনের জন্য নগরবাসী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন রাসিক প্রশাসক মো. মাহফুজুর রহমান রিটন। তিনি বলেন, নাগরিকদের সহযোগিতা ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের আন্তরিক প্রচেষ্টার ফলেই নির্ধারিত সময়ের আগেই নগরী পরিচ্ছন্ন করা সম্ভব হয়েছে। নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
এদিকে প্রথমবারের মতো নগরীর প্রায় ৮২ হাজার মুসলিম পরিবারের মধ্যে কোরবানির মাংস সংরক্ষণের জন্য পরিবেশবান্ধব ব্যাগ বিতরণ করা হয়। গরু বা মহিষ কোরবানিদাতাদের বড় ব্যাগ ও ব্লিচিং পাউডার এবং ছাগল বা ভেড়া কোরবানিদাতাদের ছোট ব্যাগ ও জীবাণুনাশক সরবরাহ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে রাসিক। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এ উদ্যোগ পরিচ্ছন্নতা ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলেছে।
সিএ/এমই


