বর্তমান ব্যস্ত জীবনে কাজের চাপ ও মানসিক উদ্বেগ অনেকের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সহজ একটি অভ্যাস, নিয়ন্ত্রিত শ্বাস-প্রশ্বাস বা প্রাণায়াম, মানসিক স্বাস্থ্যে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।
প্রাণায়াম হলো সচেতনভাবে শ্বাস নেওয়া ও ছাড়ার একটি পদ্ধতি, যা প্রাচীন যোগচর্চার অংশ। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলোতে দেখা গেছে, নিয়মিত এই অনুশীলন শরীরের স্ট্রেস প্রতিক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে পারে।
২০২২ সালে প্রকাশিত একটি গবেষণায় দেখা যায়, প্রাণায়াম চর্চার ফলে কর্টিসল হরমোনের প্রতিক্রিয়ায় পরিবর্তন আসে, যা শরীরের স্ট্রেস মোকাবিলার সক্ষমতা বাড়ায়।
এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের একটি গবেষণায় দেখা গেছে, প্রাণায়াম অনুশীলনে হার্ট রেট ভ্যারিয়েবিলিটি বৃদ্ধি পায়। এর অর্থ হলো শরীরের প্যারাসিমপ্যাথেটিক নার্ভাস সিস্টেম সক্রিয় হয়, যা শরীরকে শান্ত রাখতে সহায়তা করে।
গবেষণায় আরও উল্লেখ করা হয়, ধীর ও গভীর শ্বাস নেওয়া এবং শ্বাসের গতি নিয়ন্ত্রণ করা স্নায়ুতন্ত্রকে স্থিতিশীল রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কয়েক মিনিটের অনুশীলনেও ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যেতে পারে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, এই অভ্যাস মস্তিষ্ককে চাপের অবস্থা থেকে বের হতে সহায়তা করে, স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণ সহজ করে তোলে। ফলে মন ধীরে ধীরে স্থির হতে শুরু করে।
তবে গবেষকরা জানিয়েছেন, অধিকতর দীর্ঘমেয়াদি ও বিস্তৃত গবেষণা প্রয়োজন, কারণ অনেক গবেষণায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যা সীমিত এবং সময়কাল তুলনামূলক কম।
সিএ/এমআর


