দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় জনপ্রিয় একটি ঐতিহ্যবাহী খাবার হলো ‘কাজির ভাত’। বিশেষ প্রক্রিয়ায় চাল কয়েকদিন পানিতে রেখে গাঁজনের মাধ্যমে এটি প্রস্তুত করা হয়। এ ধরনের খাবার খাওয়া ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ কি না—এ নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন রয়েছে।
ধর্মীয় ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, কোনো খাদ্যদ্রব্যে প্রাকৃতিক বা রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় অ্যালকোহলজাত উপাদান তৈরি হলেই তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে হারাম হয়ে যায় না। মূল বিষয় হলো, ওই খাদ্য গ্রহণের ফলে মানুষ নেশাগ্রস্ত বা মাতাল হয় কি না।
বিশেষজ্ঞ আলেমদের মতে, প্রচলিত পদ্ধতিতে তৈরি কাজির ভাত খেলে সাধারণত মানুষ মাতাল বা নেশাগ্রস্ত হয় না। ফলে এটি খাওয়ার ক্ষেত্রে ইসলামে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। এ কারণে সাধারণ অবস্থায় এই খাবার খাওয়া জায়েজ বলে বিবেচিত হয়।
তবে যদি কোনো বিশেষ প্রক্রিয়ায় প্রস্তুতকৃত কাজির ভাত খাওয়ার ফলে নেশা সৃষ্টি হয় বা মানুষ মাতাল হয়ে পড়ে, তাহলে তা খাওয়া বৈধ হবে না। কারণ ইসলামে নেশাজাতীয় সব ধরনের বস্তু নিষিদ্ধ।
হাদিসে এ বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। আব্দুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) থেকে বর্ণিত রাসুল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) ইরশাদ করেছেন, প্রতিটি মাতাল করে দেয়া বস্তুই মদ আর যে কোনো রকম মদই হারাম। (সহিহ মুসলিম: ২০০৩)
ধর্মীয় বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তাই কোনো খাবার বা পানীয়ের বৈধতা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এর উপাদানের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয় সেটি মানুষের ওপর কী ধরনের প্রভাব ফেলে।
সিএ/এমআর


