ইসলামের ইতিহাসে জান্নাতুল বাকি কবরস্থান একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান। মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর জীবনের শেষ সময়ে এখানে গিয়ে কবরবাসীদের জন্য দোয়া করেছিলেন। হাদিসের বিভিন্ন বর্ণনায় সেই রাতের ঘটনা বিশেষ গুরুত্বের সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাদিস অনুযায়ী, নবীজির (সা.) মুক্তদাস ও সাহাবি আবু মুওয়াইহিবা (রা.) এক রাতে রাসুলুল্লাহর (সা.) সঙ্গে জান্নাতুল বাকিতে যান। তিনি পরবর্তীতে সেই ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা করেছেন।
আবু মুওয়াইহিবা (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) আমাকে বললেন, আমাকে বাকী কবরস্থানের অধিবাসীদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তুমি আমার সঙ্গে চল।
এরপর গভীর রাতে তারা জান্নাতুল বাকিতে যান। সেখানে পৌঁছে মহানবী (সা.) কবরবাসীদের উদ্দেশে দোয়া করেন এবং ভবিষ্যতের বিভিন্ন ফিতনা সম্পর্কে সতর্কবার্তা দেন।
তিনি বলেন:
“কবরবাসীগণ! আপনাদের ওপর শান্তি বর্ষিত হোক। মানুষ যে ফেতনায় পড়তে যাচ্ছে তার তুলনায় আপনারা যে অবস্থায় আছেন তা আপনাদের জন্য কতই না সৌভাগ্যের! যদি আপনারা জানতেন আল্লাহ আপনাদের কী ভয়ানক পরিস্থিতি থেকে বাঁচিয়েছেন!
অন্ধকার রাতের মতো ফেতনা ধেয়ে আসছে। একটির পেছনেই আরেকটি আসছে। পরবর্তী প্রতিটি ফেতনা আগেরটির চেয়ে আরও বেশি অন্ধকার ও ভয়াবহ হবে!”
হাদিসে আরও এসেছে, এরপর নবীজি (সা.) আবু মুওয়াইহিবা (রা.)-কে এমন একটি বিষয় জানান, যা তাঁর জীবনের শেষ সময়ের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল।
তিনি বলেন:
“আবু মুওয়াইহিবা! আমাকে দুনিয়ার ধনভাণ্ডারের চাবিগুচ্ছ এবং দুনিয়াতে চিরস্থায়িত্ব, অতঃপর জান্নাত দেওয়া হয়েছিল। এরপর আমাকে এগুলো ও আমার রবের সাক্ষাৎ- এ দুটির মাঝে একটিকে বেছে নিতে বলা হয়েছে।”
এর উত্তরে আবু মুওয়াইহিবা (রা.) বলেন:
“আমার বাবা-মা আপনার জন্য উৎসর্গিত হোন। হে আল্লাহর রাসুল! আপনি দুনিয়ার ধনভাণ্ডারের চাবিগুচ্ছ, দুনিয়াতে চিরকাল থাকার সুযোগ, অতঃপর জান্নাত গ্রহণ করুন।”
তখন রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন:
“আল্লাহর কসম, না, হে আবু মুওয়াইহিবা! বরং আমি আমার রবের সাক্ষাতই বেছে নিয়েছি।”
হাদিসের বর্ণনা অনুযায়ী, এরপর তিনি জান্নাতুল বাকি কবরস্থানের বাসিন্দাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং ফিরে আসেন। পরবর্তীতে তিনি সেই অসুস্থতায় আক্রান্ত হন, যে অসুস্থতার মধ্য দিয়েই তাঁর ইন্তেকাল হয়েছিল।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এই ঘটনা মুমিনদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা বহন করে। এর মাধ্যমে আখিরাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া, আল্লাহর সন্তুষ্টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া এবং সমাজের সব শ্রেণির মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের শিক্ষা পাওয়া যায়।
সূত্র: মুসনাদে আহমদ
সিএ/এমআর


