দেশের বিভিন্ন কারাগারে বর্তমানে ৯৩ জন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দি রয়েছেন। তবে স্বাধীনতার পর পাঁচ দশকেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত কোনো নারী আসামির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার নজির নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতে আপিলের পর মৃত্যুদণ্ডের সাজা কমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে রূপান্তরিত হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
সম্প্রতি আলোচিত একটি হত্যা মামলায় স্বপ্না খাতুন নামে এক নারীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। রায়ের পর তাকে কনডেমড সেলে রাখা হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দিদের মধ্যে ৫০ জন গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে রয়েছেন।
কারা কর্মকর্তারা জানান, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দিদের জন্য আলাদা সেল নির্ধারিত থাকে। এসব বন্দিকে সাধারণ কয়েদিদের মতো বিভিন্ন কাজে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয় না। তারা অধিকাংশ সময় সেলের ভেতরেই অবস্থান করেন। শিক্ষিত বন্দিদের কেউ কেউ বই পড়ে সময় কাটান।
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, বিচারিক আদালতের রায়ের পর মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে একাধিক আইনি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স, আপিল বিভাগে আপিল এবং রিভিউ আবেদনের সুযোগ থাকায় দীর্ঘ সময় ধরে মামলার নিষ্পত্তি চলতে পারে। এ প্রক্রিয়ার মধ্যেই অনেক ক্ষেত্রে সাজা পরিবর্তিত হয়।
ফৌজদারি আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য অনুযায়ী, নারীদের ক্ষেত্রে কিছু মানবিক ও সামাজিক বিষয়ও বিবেচনায় আসে। অসুস্থতা, সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব কিংবা অন্যান্য পরিস্থিতি আদালতের বিবেচনায় প্রভাব ফেলতে পারে। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিষয়ক বিভিন্ন আলোচনাতেও নারী বন্দিদের ক্ষেত্রে বিশেষ সহানুভূতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়ে থাকে।
কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নারী বন্দিদের জন্য পৃথক ভবন রয়েছে। সেখানে আলাদা কক্ষে তাদের রাখা হয়। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তারা সেলের আঙিনায় যেতে পারেন। মাসে একবার স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং সপ্তাহে একবার মোবাইল ফোনে কথা বলার সুযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বিচারিক আদালতের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে উচ্চ আদালতের অনুমোদন প্রয়োজন হয়। মামলার বিভিন্ন নথি, সাক্ষ্য ও বিচারিক রায় সংবলিত পেপারবুক প্রস্তুতের পর ডেথ রেফারেন্সের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। এরপর আপিল ও পুনর্বিবেচনার সুযোগও থাকে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ সময় কনডেমড সেলে অবস্থানের কারণে অনেক বন্দি মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করেন। এ কারণে বিষয়টি মানবাধিকার ও বিচারব্যবস্থার আলোচনায়ও গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে।
সিএ/এমআর


