ডিমকে পুষ্টিগুণে ভরপুর একটি খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এতে উচ্চমানের প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান রয়েছে। তাই সকালের নাশতা থেকে শুরু করে দিনের বিভিন্ন সময়ে ডিম অনেকের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত স্থান পায়।
পুষ্টিবিদদের মতে, ডিম অত্যন্ত উপকারী হলেও কিছু খাবারের সঙ্গে একসঙ্গে খেলে হজমজনিত সমস্যা বা পুষ্টি শোষণে প্রভাব পড়তে পারে। তাই খাদ্যাভ্যাসে কিছু বিষয়ে সচেতনতা প্রয়োজন।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ডিমের সঙ্গে কলা খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা ভালো। যদিও দুটি খাবারই পুষ্টিকর, তবে একসঙ্গে গ্রহণ করলে কিছু মানুষের হজমে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে।
ডিমের সঙ্গে পনির খাওয়ার ক্ষেত্রেও পরিমিতি বজায় রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়। কারণ উভয় খাবারেই উচ্চমাত্রার প্রোটিন ও ফ্যাট রয়েছে। অতিরিক্ত পরিমাণে গ্রহণ করলে হজমের সমস্যা বা অতিরিক্ত ক্যালোরি গ্রহণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
সয়া দুধ বা অন্যান্য দুধজাত খাবারের সঙ্গে ডিম খাওয়ার ক্ষেত্রেও কিছু বিশেষজ্ঞ সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেন। তাদের মতে, একসঙ্গে অতিরিক্ত প্রোটিন গ্রহণের ফলে কিছু মানুষের হজমে সময় বেশি লাগতে পারে।
মাংস ও ডিম উভয়ই উচ্চ প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার। তাই একই খাবারে অতিরিক্ত পরিমাণে ডিম ও মাংস গ্রহণ করলে হজমে চাপ তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে যাদের পরিপাকতন্ত্র সংবেদনশীল, তাদের জন্য বিষয়টি বিবেচ্য হতে পারে।
অনেকের সকালের নাশতায় ডিম ও চা একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস রয়েছে। তবে পুষ্টিবিষয়ক কিছু গবেষণায় বলা হয়েছে, চায়ের নির্দিষ্ট উপাদান ডিমের কিছু পুষ্টি উপাদান শোষণে প্রভাব ফেলতে পারে। এ কারণে দুই খাবারের মধ্যে কিছু সময়ের ব্যবধান রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ডিম খাওয়ার পরপরই আয়রন সাপ্লিমেন্ট বা কিছু ওষুধ গ্রহণ করলে পুষ্টি শোষণের কার্যকারিতা কমতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন। তাই প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ও খাবারের সময় নির্ধারণ করা উচিত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিম একটি নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য। তবে সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখতে এবং সর্বোচ্চ পুষ্টিগুণ পেতে বিভিন্ন খাবারের সঠিক সমন্বয় সম্পর্কে সচেতন থাকা প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


