বিশ্বকাপের শুরুটা দারুণভাবে করেছে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। প্রথম ম্যাচে আলজেরিয়াকে বড় ব্যবধানে হারিয়ে আত্মবিশ্বাসী অবস্থানে রয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। ম্যাচ শেষে একদিন বিশ্রাম নেওয়ার পর আবারও অনুশীলনে ফিরেছেন ফুটবলাররা। তবে প্রতিপক্ষের পাশাপাশি এবার তাদের সামনে নতুন এক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া।
যুক্তরাষ্ট্রের তীব্র গরমে অনুশীলন ও ম্যাচ প্রস্তুতি সহজ রাখতে বিশেষ ব্যবস্থা নিয়েছে আর্জেন্টিনা দল। কানসাসে অনুষ্ঠিত বৃহস্পতিবারের অনুশীলনে ফুটবলারদের গায়ে দেখা গেছে বিশেষ ধরনের ‘কুলিং ভেস্ট’, যা শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
জানা গেছে, প্রায় ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রার মধ্যে অনুশীলন চালিয়ে যেতে গিয়ে বাড়তি শারীরিক চাপ অনুভব করছিলেন খেলোয়াড়রা। সেই পরিস্থিতি মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর এই পোশাক ব্যবহার করা হয়।
এই বিশেষ ভেস্ট মূলত আগে থেকেই শীতল করে প্রস্তুত করা হয়। ভেস্টের ভেতরে একাধিক ছোট পকেট থাকে, যেখানে বিশেষ ধরনের ঠাণ্ডা জেল সংযুক্ত থাকে। শরীরের কাছাকাছি অবস্থানের কারণে এটি তাপমাত্রা কম রাখতে সহায়তা করে এবং দীর্ঘ সময় অনুশীলনের মধ্যেও স্বস্তি দেয়।
ফুটবলাররা মাঠে নামার আগে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ায় জেলগুলো ঠাণ্ডা করা হয়। এরপর অনুশীলনের সময় সেগুলো ব্যবহার করা হয়। প্রযুক্তিনির্ভর এই পদ্ধতি ইতোমধ্যে উচ্চ পর্যায়ের ক্রীড়াঙ্গনে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেছে।
তথ্য অনুযায়ী, একটি কুলিং ভেস্টের তাপমাত্রা সর্বনিম্ন ১৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত রাখা সম্ভব। শুধু ভেস্ট নয়, খেলোয়াড়দের জন্য বিশেষ ধরনের বুটও ব্যবহার করা হচ্ছে, যা অতিরিক্ত তাপের প্রভাব কমাতে সাহায্য করে।
এই প্রযুক্তি অবশ্য আর্জেন্টিনার জন্য একেবারে নতুন নয় কিংবা একমাত্র ব্যবহৃত পদ্ধতিও নয়। এর আগে স্পেনও বিশ্বকাপ প্রস্তুতির সময় একই ধরনের কুলিং প্রযুক্তি ব্যবহার করেছিল। গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানিয়ে নিতে সৌদি আরবের মতো দেশগুলোর ফুটবলাররাও এ ধরনের ভেস্ট ব্যবহারে অভ্যস্ত।
বিশ্বকাপের দীর্ঘ ও শারীরিকভাবে কঠিন সূচিতে মাঠের প্রস্তুতির পাশাপাশি আবহাওয়ার সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়াও যে সমান গুরুত্বপূর্ণ, আর্জেন্টিনার এই উদ্যোগ তা আরও একবার সামনে নিয়ে এসেছে।
সিএ/এমই


