প্রথম টেস্টে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর দ্বিতীয় ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছে নিউজিল্যান্ড। ব্যাট হাতে বড় সংগ্রহ গড়ার পর বল হাতেও নিয়ন্ত্রণ দেখিয়েছে সফরকারীরা। বিশেষ করে পেসার ম্যাট হেনরির দুর্দান্ত স্পেলে ইংল্যান্ডকে চাপে ফেলে গুরুত্বপূর্ণ লিড তুলে নিয়েছে ব্ল্যাক ক্যাপসরা।
ওভালে দ্বিতীয় টেস্টের প্রথম ইনিংসে নিউজিল্যান্ড সংগ্রহ করে ৩৯১ রান। সেই লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে ম্যাচের তৃতীয় দিন লাঞ্চ বিরতির ঠিক আগে ২৯১ রানে গুটিয়ে যায় স্বাগতিক ইংল্যান্ড। ফলে প্রথম ইনিংসে ১০০ রানের মূল্যবান লিড পায় নিউজিল্যান্ড।
ইংল্যান্ডের বিপক্ষে এই সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দুতে ছিলেন ম্যাট হেনরি। টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের বিপক্ষে পাঁচ উইকেট নেওয়ার কীর্তি গড়েন এই পেসার। দ্বিতীয় দিন থেকেই ধারাবাহিক চাপ তৈরি করে আসা হেনরি তৃতীয় দিনের শুরুতে আরও বিধ্বংসী হয়ে ওঠেন।
আগের দিন জো রুট ও হ্যারি ব্রুকের গুরুত্বপূর্ণ উইকেট নেওয়ার পর সকালে দ্রুত জর্ডান কক্স ও জোফ্রা আর্চারকে ফিরিয়ে দেন তিনি। তার আক্রমণাত্মক বোলিংয়ে মিডল অর্ডার ও লোয়ার অর্ডারে বড় ধস নামে ইংল্যান্ড শিবিরে।
একপর্যায়ে ২৩৮ রানে ৯ উইকেট হারিয়ে ইনিংস পরাজয়ের শঙ্কায় পড়ে যায় স্বাগতিকরা। তবে দশম উইকেট জুটিতে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন ম্যাথু ফিশার ও সনি বেকার। দুজনের লড়াইয়ে দলীয় স্কোর কিছুটা এগিয়ে যায়।
বিশেষ করে অভিষেক টেস্ট খেলতে নামা ম্যাথু ফিশার ব্যাট হাতে নজর কাড়েন। নিচের সারিতে নেমে অপরাজিত ৫০ রান করে দলের বিপর্যয়ের মাঝেও লড়াই চালিয়ে যান তিনি।
এর আগে নিউজিল্যান্ডের বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে দেন গ্লেন ফিলিপস। দ্বিতীয় দিনের ব্যাটিংয়ে দুর্দান্ত এক শতক তুলে নেন তিনি। এই ইনিংসের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড ক্রিকেটে একটি বিশেষ অর্জনের অংশও হয়ে যান ফিলিপস।
ব্রেন্ডন ম্যাককালাম ও মার্টিন গাপটিলের পর তৃতীয় নিউজিল্যান্ডার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের তিন ফরম্যাটেই সেঞ্চুরির বিরল কীর্তিতে নাম লেখান তিনি।
তিন ম্যাচের সিরিজে বর্তমানে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ইংল্যান্ড। তবে দ্বিতীয় টেস্টে নিউজিল্যান্ড যেভাবে ম্যাচে নিয়ন্ত্রণ তৈরি করেছে, তাতে সিরিজে সমতা ফেরানোর সম্ভাবনাও জোরালো হয়েছে।
সিএ/এমই


