হবিগঞ্জ জেলার গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা নবীগঞ্জে সরকারি সেবা নিয়ে অসন্তোষের অভিযোগ সামনে এসেছে। বিশেষ করে সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে নিয়মিত সেবা না পাওয়ার অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও সেবাগ্রহীতারা। তাদের দাবি, অফিসে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত উপস্থিত না থাকায় জমি রেজিস্ট্রি ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কার্যক্রমে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নবীগঞ্জ সাব-রেজিস্ট্রার অফিসে কর্মরত সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম সপ্তাহে মাত্র একদিন কর্মস্থলে উপস্থিত থাকেন। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা মানুষ প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে না পেরে ফিরে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। ফলে সময় ও অর্থ—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়ছেন সেবাগ্রহীতারা।
বিশেষ করে জমি বিক্রি, ক্রয়, ব্যাংকঋণ বা অন্যান্য জরুরি প্রয়োজনে দলিল নিবন্ধন করতে আসা মানুষের ভোগান্তি বেশি হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অনেকের দলিল দীর্ঘ সময় ধরে নিষ্পত্তির অপেক্ষায় পড়ে থাকছে, যার প্রভাব পড়ছে ব্যক্তিগত ও আর্থিক কাজে।
এ পরিস্থিতিতে দলিল লেখক সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। তাদের ভাষ্য, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিয়মিত অফিস না করায় স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে এবং কাজের গতি কমে যাচ্ছে।
অভিযোগের বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে সাব-রেজিস্ট্রার আব্দুস সালাম জানান, তিনি শুধু নবীগঞ্জ নয়, একই সঙ্গে বানিয়াচং ও হবিগঞ্জ সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিসের দায়িত্বও পালন করছেন। একাধিক কার্যালয়ের দায়িত্ব থাকার কারণে প্রতিদিন নবীগঞ্জে উপস্থিত থাকা তার পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তবে স্থানীয়দের একাংশ বলছেন, অতিরিক্ত দায়িত্ব থাকলেও সরকারি সেবায় বিঘ্ন ঘটার বিষয়টি গ্রহণযোগ্য নয়। তাদের মতে, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনায় সমন্বয় করে সেবা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব।
ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, কর্মকর্তা নিয়মিত না থাকার সুযোগে দালালচক্র সক্রিয় হয়ে উঠছে। দলিল নিবন্ধনসহ বিভিন্ন কাজে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের অভিযোগও তুলেছেন কেউ কেউ। পাশাপাশি সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত সেবা পাওয়াও কঠিন হয়ে পড়ছে।
স্থানীয়দের দাবি, পরিস্থিতি দ্রুত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত জনবল বা বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগের মাধ্যমে নবীগঞ্জবাসীর জন্য নিয়মিত সেবা নিশ্চিত করা হোক। সরকারি সেবার মান ধরে রাখতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত পদক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
সিএ/এমই


