ভোলা সদর উপজেলায় ৬০ বছর বয়সী এক নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। অসুস্থ ও গুরুতর শারীরিক অবস্থায় তাকে ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ঘটনার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে এবং অভিযুক্তকে আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার (২১ জুন) দিবাগত রাতে ভোলা পৌরসভার চরনোয়াবাদ এলাকার নিজ বাড়িতে ঘটনাটি ঘটে। পরদিন রোববার (২২ জুন) সকালে পরিবারের সদস্যরা অসুস্থ অবস্থায় ওই নারীকে হাসপাতালে নিয়ে যান।
পুলিশ ও পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, অভিযুক্ত ব্যক্তি পরিবারের পরিচিত এবং আত্মীয়তার সূত্রে ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত করতেন। ঘটনার রাতে তিনি বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। পরে গভীর রাতে জোরপূর্বক যৌন সহিংসতার অভিযোগ উঠে এবং ঘটনার পর তিনি সেখান থেকে চলে যান।
অভিযুক্ত ব্যক্তি ভোলা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কালিখোলা এলাকার বাসিন্দা বলে জানিয়েছে পুলিশ। স্থানীয় কয়েকজনের দাবি, তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই বিভিন্ন অনিয়ম ও উচ্ছৃঙ্খল আচরণের অভিযোগ ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে স্বাধীনভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
ভোলা জেনারেল হাসপাতালের গাইনি বিভাগের কনসালটেন্ট ডা. সুরাইয়া ইয়াসনুর জানান, রোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। বয়সজনিত দুর্বলতাও পরিস্থিতিকে জটিল করেছে। তিনি বলেন, পর্যবেক্ষণের পর পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নির্ধারণ করা হবে।
হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আরাফাতুর রহমান জানান, রোগীর স্বজনদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে। চিকিৎসা কার্যক্রম চলমান রয়েছে এবং ফলাফলের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ভোলার পুলিশ সুপার মো. শহীদুল্লাহ কাওছার বলেন, খবর পাওয়ার পর পুলিশ কর্মকর্তারা হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছেন এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছেন। তিনি জানান, ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিকে শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
সিএ/এমই


