বিশ্বকাপ অভিযান প্রত্যাশামতো শুরু করতে পারেনি পর্তুগাল। টুর্নামেন্টে নবাগত ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে জয় তুলে নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের ড্র নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয়েছে দলটিকে। আর এই ফলের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় উঠে এসেছে অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর পারফরম্যান্স।
৪১ বছর বয়সে বিশ্বকাপের ম্যাচে মাঠে নেমে নতুন রেকর্ড গড়েন রোনালদো। পুরো ৯০ মিনিট খেললেও ম্যাচে প্রত্যাশিত প্রভাব রাখতে পারেননি তিনি। দলের আক্রমণভাগে সক্রিয় থাকলেও ফল নির্ধারণী মুহূর্তে তার উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বিভিন্ন মহলে।
পর্তুগালের হতাশাজনক শুরুর পর সমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন এই তারকা ফরোয়ার্ড। ম্যাচ-পরবর্তী বিশ্লেষণে ফরাসি কিংবদন্তি থিয়েরে অঁরি তার খেলার ধরন নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করেন।
ফক্স স্পোর্টসের আলোচনায় অঁরি বলেন, পর্তুগিজ অধিনায়ক দলগত প্রয়োজনের তুলনায় ব্যক্তিগতভাবে গোল করার দিকে বেশি মনোযোগী ছিলেন।
তার ভাষায়, ‘সবার উদ্দেশ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ কথা, দয়া করে মনে রাখুন; দলের গোল করা দরকার, আপনার একার নয়।’
অঁরি ম্যাচের একটি নির্দিষ্ট মুহূর্তের উদাহরণও তুলে ধরেন। তার মতে, দ্বিতীয়ার্ধে ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও আক্রমণে এগিয়ে যাওয়ার সময় রোনালদোর অবস্থান নেওয়ার ধরন দলের জন্য সহায়ক হয়নি।
তিনি বলেন, সেই মুহূর্তে রোনালদোর উচিত ছিল ব্যাক-পোস্টে গিয়ে প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখা। কিন্তু গোল করার তাড়নায় তিনি এমন জায়গায় চলে যান, যেখানে ইতোমধ্যে অবস্থান করছিলেন ব্রুনো ফার্নান্দেস। এতে আক্রমণের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হয়।
অঁরি আরও বলেন, ‘রোনালদো সেই বলটি কেড়ে নিয়ে শট নিলেও তা পোস্টের অনেক বাইরে চলে যায়, যা মাঠে ব্রুনো ফার্নান্দেসকেও দৃশ্যত হতাশ করে তোলে দলের খেলায়।’
ফরাসি কিংবদন্তির মতে, বর্তমানে রোনালদোর খেলার প্রভাব ডি-বক্সের বাইরে সীমিত হয়ে পড়ছে। বিল্ড-আপ প্লেতে তার অংশগ্রহণ আগের মতো কার্যকর নয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এতে দলের আক্রমণ গড়ে তোলার স্বাভাবিক গতি বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে মনে করেন অঁরি।
তবে বিশ্বকাপের শুরুতেই পাওয়া এই ফলকে চূড়ান্ত মূল্যায়নের মানদণ্ড হিসেবে দেখছেন না অনেকে। সামনে থাকা ম্যাচগুলোতেই পর্তুগাল ও রোনালদোর জন্য নিজেদের প্রমাণের সুযোগ থাকছে।
সিএ/এমই


