বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে সফল দল হিসেবে ব্রাজিলের নাম উচ্চারিত হয় সবার আগে। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলটি দশকের পর দশক ধরে আক্রমণাত্মক ফুটবল, কারিগরি দক্ষতা ও নান্দনিক খেলায় বিশ্বমঞ্চে নিজেদের আলাদা পরিচয় তৈরি করেছে। তবে ব্রাজিলকে নিয়ে আলোচনা উঠলেই অনেকের মনে প্রথমে ভেসে ওঠে ২০১৪ বিশ্বকাপের সেই দুঃসহ স্মৃতি—জার্মানির কাছে ৭-১ গোলের পরাজয়।
কিন্তু বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানে ব্রাজিলের জয় কোনটি—এই প্রশ্নের উত্তর অনেকেরই অজানা। সেই উত্তর খুঁজতে ফিরে যেতে হয় সাত দশকেরও বেশি সময় আগে, ১৯৫০ সালের বিশ্বকাপে।
নিজেদের মাটিতে অনুষ্ঠিত সেই আসরে ইউরোপের শক্তিশালী দল সুইডেনকে ৭-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়েছিল ব্রাজিল। স্কোরলাইন ও পারফরম্যান্স—দুই দিক থেকেই সেটি বিশ্বকাপ ইতিহাসে সেলেসাওদের অন্যতম স্মরণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৫০ সালের ৯ জুলাই ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হয় ম্যাচটি। গ্যালারিতে উপস্থিত ছিলেন প্রায় ১ লাখ ৩৮ হাজার দর্শক। পুরো স্টেডিয়ামজুড়ে ছিল উৎসবের আবহ, আর সেই মঞ্চেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের অনন্য প্রদর্শনী উপহার দেয় স্বাগতিক ব্রাজিল।
সেই সময়ের বিশ্বকাপ বর্তমানের মতো সরাসরি নকআউট কাঠামোয় অনুষ্ঠিত হয়নি। শীর্ষ চার দলকে নিয়ে আলাদা লিগ পর্বের মাধ্যমে চ্যাম্পিয়ন নির্ধারণ করা হয়। ফলে সুইডেনের বিপক্ষে ম্যাচটি কার্যত বর্তমান সময়ের সেমিফাইনালের গুরুত্ব বহন করছিল।
ম্যাচজুড়ে সুইডেনের রক্ষণভাগকে একের পর এক আক্রমণে ভেঙে দেয় ব্রাজিল। সেই জয়ের সবচেয়ে বড় নায়ক ছিলেন কিংবদন্তি ফরোয়ার্ড আদেমির।
তিনি একাই করেন চার গোল। ম্যাচের ১৭, ৩৬, ৫২ ও ৫৮ মিনিটে জালের দেখা পান এই ব্রাজিলিয়ান তারকা। বিশ্বকাপে ব্রাজিলের জার্সিতে এক ম্যাচে চার গোল করার বিরল কীর্তিও গড়েন তিনি।
আদেমিরের পাশাপাশি আক্রমণে উজ্জ্বল ছিলেন উইঙ্গার চিকো। তিনি ৩৯ ও ৮৮ মিনিটে দুটি গোল করে ব্যবধান আরও বড় করেন। আর ম্যাচের ৭০ মিনিটে ব্রাজিলের সপ্তম গোলটি করেন জিজিনহো।
অন্যদিকে সুইডেনের হয়ে একমাত্র গোলটি আসে ৬৭ মিনিটে। পেনাল্টি থেকে গোল করে ব্যবধান কিছুটা কমান অ্যান্ডারসন।
পরবর্তীতে সেই বিশ্বকাপ ইতিহাসে অন্য কারণে বেশি আলোচিত হলেও সুইডেনের বিপক্ষে এই ৭-১ গোলের জয় এখনো বিশ্বকাপ মঞ্চে ব্রাজিলের সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয় হিসেবে বিশেষ জায়গা ধরে রেখেছে।
সিএ/এমই


