বিশ্বকাপের মাঠে আফ্রিকার দেশগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সমর্থনের চিত্র দীর্ঘদিনের পরিচিত বাস্তবতা। আন্তর্জাতিক আসরে একটি আফ্রিকান দল খেললে অন্য দেশগুলোর সমর্থকদের বড় অংশকেও প্রায়ই তাদের পাশে দেখা যায়। তবে চলতি আসরে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে ভিন্ন এক বাস্তবতা সামনে এসেছে।
অভিবাসীবিরোধী সহিংসতা ও জাতিগত বিদ্বেষের অভিযোগকে কেন্দ্র করে আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের সমর্থকদের একটি অংশ দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে অবস্থান নিচ্ছেন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। ফলে ফুটবলের বাইরের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্তেজনা মাঠের আবহেও প্রভাব ফেলছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কেনিয়ার একটি বারে বিশ্বকাপ ম্যাচ দেখার সময় এমন চিত্র দেখা গেছে। সেখানে উপস্থিত কয়েকজন ফুটবল সমর্থক দক্ষিণ আফ্রিকার প্রতিপক্ষ দলকে সমর্থন জানিয়ে উল্লাস করেন। স্থানীয় পর্যবেক্ষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দক্ষিণ আফ্রিকায় বিদেশিবিরোধী উত্তেজনা ও সহিংসতার ঘটনাগুলোর প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই মনোভাব প্রকাশ পাচ্ছে।
চেক প্রজাতন্ত্রের বিপক্ষে ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকা সুযোগ নষ্ট করলেই আনন্দ প্রকাশ করছিলেন কেনিয়ার ৩৭ বছর বয়সী সমর্থক শাহিম। তিনি বলেন, ‘ফুটবলে সবকিছুই রাজনৈতিক। দক্ষিণ আফ্রিকা যা সমর্থন করছে, আমরা তার বিরুদ্ধে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা চাই (দক্ষিণ আফ্রিকার জনগণ) তাদের দেশে যা ঘটছে তার বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া দেখাতে… কিন্তু কিছুই হয় না।’
দক্ষিণ আফ্রিকায় কয়েক মাস ধরে অবৈধ অভিবাসীদের দেশত্যাগের দাবিতে বিভিন্ন কর্মসূচি ও বিক্ষোভ চলছে। যদিও সব জায়গায় সরাসরি সহিংসতা দেখা যায়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদেশিবিরোধী বক্তব্য ও উত্তেজনা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে মনোযোগ কাড়ে।
বিক্ষোভ ও সহিংসতার ঘটনায় মোসেল বে এলাকায় হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে কয়েকটি আফ্রিকান দেশ তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বলেও জানা গেছে।
এদিকে মাঠের বাইরে তৈরি হওয়া এই বিতর্কের প্রভাব ফুটবলারদের ওপরও পড়ছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দক্ষিণ আফ্রিকার খেলোয়াড়দের উদ্দেশে সমালোচনা, ট্রল ও হয়রানির অভিযোগ উঠেছে।
দক্ষিণ আফ্রিকান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন এ ধরনের আচরণের নিন্দা জানিয়েছে। দলের অধিনায়ক রনওয়েন উইলিয়ামসও স্বীকার করেছেন, চলমান পরিস্থিতির কারণে অন্য দেশের অভিবাসীদের মধ্যে মানসিক চাপ ও অস্বস্তি তৈরি হয়েছে।
বিশ্বকাপের মতো বৈশ্বিক আসরে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতাও যে আলোচনার অংশ হয়ে উঠতে পারে, দক্ষিণ আফ্রিকাকে ঘিরে বর্তমান পরিস্থিতি সেটিই আবার সামনে এনে দিয়েছে।
সিএ/এমই


