প্রযুক্তির এই সময়ে ফুটবলে গোল উদযাপনের মুহূর্তও অনেক সময় অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়ে যায়। বল জালে জড়ালেই আর নিশ্চিতভাবে উল্লাসে মেতে ওঠার সুযোগ থাকে না। অফসাইড কিংবা ভিএআর যাচাইয়ের অপেক্ষা অনেক সময় আনন্দকে থামিয়ে দেয়। তবে কখনো কখনো সেই প্রযুক্তিই আবার ফিরিয়ে আনে উদযাপনের সুযোগ। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যাচে ঠিক এমনই এক দৃশ্য দেখা গেছে।
সিয়াটলের ঘরের মাঠে বিশ্বকাপের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে প্রথমার্ধেই নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। বিরতিতে যাওয়ার আগে দুই গোলের লিড নিয়ে তারা নিজেদের অবস্থান শক্ত করে এবং নকআউট পর্বের পথে বড় পদক্ষেপ রাখে।
ম্যাচের দ্বিতীয় গোলটি আসে ৪৩ মিনিটে। আক্রমণ থেকে তৈরি হওয়া সুযোগে বল জালে পাঠান অ্যালেক্স ফ্রিম্যান। কিন্তু গোল হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সহকারী রেফারির অফসাইডের পতাকা ওঠায় থমকে যায় উদযাপন। গোলদাতা ও তার সতীর্থরা আনন্দে ভাসার আগেই অপেক্ষা করতে হয় প্রযুক্তির সিদ্ধান্তের জন্য।
কয়েক মুহূর্তের অপেক্ষার পর ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারির সহায়তায় পরিস্থিতি পর্যালোচনা করেন ম্যাচ কর্মকর্তা। এরপর গোলের অনুমোদন দেওয়া হলে পুরো স্টেডিয়াম উল্লাসে ফেটে পড়ে। অ্যালেক্স ফ্রিম্যানও আর অপেক্ষা করেননি। উচ্ছ্বাসে দৌড় শুরু করেন তিনি, তার সঙ্গে যোগ দেন সতীর্থরাও।
এই গোল যুক্তরাষ্ট্রকে মানসিকভাবে আরও এগিয়ে দেয়। গ্যালারিতেও তখন স্বস্তি আর প্রত্যাশার মিশ্র আবহ। কারণ, দুই গোলের লিড নিয়ে বিরতিতে যাওয়া মানে বিশ্বকাপের পরের ধাপের পথে অনেকটাই এগিয়ে থাকা।
এর আগে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র। ১১ মিনিটে প্রতিপক্ষের ভুল থেকে আসে প্রথম গোল। যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণ ঠেকাতে গিয়ে অস্ট্রেলিয়ার সেন্ট্রাল ডিফেন্ডার ক্যামেরন বার্জেস বল নিজেদের জালেই পাঠিয়ে দেন। সেই আত্মঘাতী গোলেই এগিয়ে যায় স্বাগতিকরা।
প্রথমার্ধের বাকি সময়ে ব্যবধান কমানোর চেষ্টা করেছে অস্ট্রেলিয়া। কয়েকবার আক্রমণেও উঠেছিল দলটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণ ও ম্যাচ নিয়ন্ত্রণের সামনে কার্যকর হতে পারেনি তারা।
ফলে জোড়া গোলের স্বস্তি নিয়েই বিরতিতে যায় স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র, আর দ্বিতীয়ার্ধে সেই ব্যবধান ধরে রাখাই ছিল তাদের মূল লক্ষ্য।
সিএ/এমই


