সিরিজে টিকে থাকার সমীকরণ সামনে রেখে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নেমেছিল বাংলাদেশ। ঘরের মাঠে শুরুতে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়লেও ব্যাট হাতে পাল্টা লড়াই গড়ে তোলে স্বাগতিকরা। শেষ পর্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচ উপহার দিলেও জয় ধরা দেয়নি। নাটকীয় লড়াইয়ের পর ৭ রানের হারে এক ম্যাচ বাকি থাকতেই সিরিজ হাতছাড়া করেছে বাংলাদেশ।
চট্টগ্রামে টস জিতে আগে ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নেয় অস্ট্রেলিয়া। শুরুতে কিছুটা চাপে থাকলেও মাঝের ওভারে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নেয় সফরকারীরা। নির্ধারিত ২০ ওভারে ৫ উইকেটে ১৯৬ রান তোলে তারা এবং বাংলাদেশের সামনে ১৯৭ রানের বড় লক্ষ্য দাঁড় করায়।
ইনিংসের শুরুটা অবশ্য অস্ট্রেলিয়ার জন্য খুব স্বস্তির ছিল না। মাত্র ৪৪ রানের মধ্যেই তিন উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে দলটি। তবে এরপর ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড।
দুজন মিলে বাংলাদেশের বোলারদের ওপর ধারাবাহিক আক্রমণ চালিয়ে রান তুলতে থাকেন। টিম ডেভিড ২৬ বলে ৪৫ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন, যেখানে ছিল ২টি চার ও ৪টি ছক্কা। অন্যদিকে দুর্দান্ত ব্যাটিং করে সেঞ্চুরির খুব কাছে পৌঁছে যান ম্যাট রেনশ। শেষ পর্যন্ত ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। তার ইনিংসে ছিল ৪টি চার ও ৫টি ছক্কা।
বাংলাদেশের হয়ে বল হাতে তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত ছিলেন নাসুম আহমেদ। চার ওভারে ২৭ রান দিয়ে নেন দুটি উইকেট। তবে অন্য বোলাররা ধারাবাহিকভাবে রান খরচ করায় বড় সংগ্রহ গড়ে ফেলে অস্ট্রেলিয়া।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই ইতিবাচক ব্যাটিং করে বাংলাদেশ। ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ হাসান দ্রুত রান তুলতে থাকেন। প্রথম তিন ওভারেই আসে ৪২ রান, যা বড় কিছুর আশা তৈরি করেছিল।
পাওয়ার প্লে শেষে বাংলাদেশের সংগ্রহ দাঁড়ায় ১ উইকেটে ৭২ রান। সাইফ হাসান ও পরে পারভেজ হোসেন ইমন ইনিংসের গতি ধরে রাখেন। এক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় রানরেটও নাগালের মধ্যে নিয়ে আসে স্বাগতিকরা।
তানজিদ হাসান তামিম ১৫ বলে ৩০ রান করে ফিরে যান। আর সাইফ হাসান খেলেন ৩৩ বলে ৪২ রানের কার্যকর ইনিংস। সৌম্য সরকার শুরুটা ভালো করলেও সেটিকে বড় করতে পারেননি। ৯ বলে ১৫ রান করে বিদায় নেন তিনি।
মিডল অর্ডারে পারভেজ হোসেন ইমন বাংলাদেশের ইনিংসে নতুন গতি আনেন। আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে অস্ট্রেলিয়ার বোলিং আক্রমণকে চাপে ফেলেন তিনি। তবে তার বিদায়ের পর ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ হারাতে শুরু করে বাংলাদেশ।
শেষদিকে তাওহীদ হৃদয় ও শামীম হোসেন পাটোয়ারীর ওপর দায়িত্ব ছিল ম্যাচ শেষ করার। কিন্তু প্রয়োজনীয় গতি ধরে রাখতে পারেননি তারা। শামীম ৮ বলে ৭ রান করে ফেরেন, আর হৃদয় ২২ বলে ৩৫ রান করলেও শেষ পর্যন্ত দলকে জয় এনে দিতে পারেননি।
নির্ধারিত ২০ ওভারে বাংলাদেশ থামে ১৮৯ রানে। ফলে ৭ রানের জয় নিয়ে সিরিজ নিজেদের করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
সিএ/এমই


