ত্বকে ছোট বা বড় গোটার মতো অংশ দেখা দেওয়া খুবই সাধারণ একটি বিষয়। এসব গোটা মুখ, ঘাড়, পিঠ, হাত কিংবা শরীরের অন্য যেকোনো স্থানে হতে পারে। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এগুলো গুরুতর কোনো সমস্যার লক্ষণ নয়। তবে গোটার ধরন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকলে প্রয়োজনীয় সময়ে চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।
চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, ত্বকের বিভিন্ন ধরনের গোটার মধ্যে ব্রণ, সিস্ট, ফোড়া এবং টিউমার সবচেয়ে বেশি দেখা যায়। এগুলোর কারণ, বৈশিষ্ট্য ও চিকিৎসাপদ্ধতি একে অপরের থেকে আলাদা।
ব্রণ সাধারণত বয়ঃসন্ধিকালে শুরু হলেও অনেকের ক্ষেত্রে প্রাপ্তবয়স্ক বয়সেও এ সমস্যা দেখা যায়। হরমোনের পরিবর্তন এবং জীবাণুর সংক্রমণ ব্রণ হওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ। অনেক সময় ২০ থেকে ২২ বছর বয়সের পরও ব্রণ দীর্ঘদিন স্থায়ী হতে পারে।
ব্রণের ক্ষেত্রে সাধারণত গোটার ওপর একটি কালচে বা সাদা মুখ দেখা যায়। হালকা ব্যথা বা অস্বস্তিও থাকতে পারে। ত্বকের অতিরিক্ত তেল, মৃত কোষ এবং জীবাণুর কারণে রোমকূপ বন্ধ হয়ে গেলে এ ধরনের সমস্যা তৈরি হয়।
অন্যদিকে সিস্ট হলো ত্বকের নিচে তৈরি হওয়া তরলপূর্ণ থলির মতো একটি অংশ। এটি সাধারণত নরম অনুভূত হয় এবং ধীরে ধীরে আকারে বড় হতে পারে। তবে অনেক ক্ষেত্রে বছরের পর বছর একই অবস্থায়ও থাকতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সিস্টের নির্দিষ্ট কোনো কারণ সব সময় শনাক্ত করা যায় না। অনেক সিস্টের ওপর ছোট একটি মুখ থাকে, যেখান থেকে সাদাটে ক্রিমের মতো পদার্থ বের হতে পারে। এটি সাধারণত পুঁজ নয়, তাই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
তবে সিস্টে সংক্রমণ হলে ব্যথা, লালচে ভাব এবং পুঁজ জমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। তখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হয়।
ত্বকের আরেকটি পরিচিত সমস্যা হলো ফোড়া। এটি সাধারণত জীবাণু সংক্রমণের কারণে তৈরি হয়। গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় ঘাম, ধুলাবালি এবং অপরিষ্কার ত্বকের কারণে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ে।
ফোড়ার ক্ষেত্রে গোটার ভেতরে পুঁজ জমে যায়। ফলে জায়গাটি ব্যথাযুক্ত হয়ে ওঠে এবং সুই ফোটানোর মতো যন্ত্রণা অনুভূত হতে পারে। আক্রান্ত অংশ লালচে ও ফুলে যেতে পারে।
কিছু ক্ষেত্রে ত্বক বা ত্বকের নিচে টিউমারজাতীয় গোটা তৈরি হতে পারে। এসব গোটা সাধারণত তুলনামূলক শক্ত হয় এবং সহজে নড়াচড়া করা যায় না। অনেক সময় এগুলো দ্রুত বড়ও হতে পারে।
তবে সব টিউমার বিপজ্জনক নয়। উদাহরণ হিসেবে লাইপোমার কথা বলা যায়। এটি চর্বিজাতীয় কোষ দিয়ে তৈরি নিরীহ প্রকৃতির একটি টিউমার। অধিকাংশ ক্ষেত্রে লাইপোমা দীর্ঘদিন একই আকারে থাকে এবং কোনো সমস্যা সৃষ্টি না করলে অপসারণের প্রয়োজন হয় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শরীরের যেকোনো স্থানে অস্বাভাবিক গোটা দেখা দিলে সেটিকে অবহেলা করা উচিত নয়। গোটা খোঁচানো, চাপ দেওয়া বা সুই দিয়ে ফুটো করার চেষ্টা করলে সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
এ ছাড়া গোটার ওপর ব্লেড বা রেজার ব্যবহার করার সময়ও সতর্ক থাকতে হবে। মুখে বা শরীরে এমন কোনো অংশ থাকলে শেভ করার সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।
ব্রণ হলে নিয়মিত ত্বক পরিষ্কার রাখা জরুরি। প্রয়োজন অনুযায়ী সাবান বা ফেসওয়াশ ব্যবহার করা উচিত। বিশেষজ্ঞরা দিনে অন্তত দুবার মুখ পরিষ্কার করার পরামর্শ দেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত তেলযুক্ত বা চিটচিটে প্রসাধনী এড়িয়ে চলার কথাও বলেন।
চিকিৎসকদের মতে, বর্তমানে ব্রণের কার্যকর চিকিৎসা রয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে মলম ব্যবহারেই উপকার পাওয়া যায়, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে ওষুধের প্রয়োজন হতে পারে। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে থেকে ওষুধ বা মলম ব্যবহার করা ঠিক নয়।
সিস্টের ক্ষেত্রে সংক্রমণ না হলে সাধারণত চিকিৎসার প্রয়োজন হয় না। তবে বড় হয়ে গেলে বা সংক্রমণ দেখা দিলে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। অনেক সময় সিস্ট পুরোপুরি অপসারণের জন্য অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, যদি কোনো গোটা দ্রুত বড় হতে থাকে, শক্ত অনুভূত হয় বা দীর্ঘদিন স্থায়ী থাকে, তাহলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে গোটার প্রকৃতি নির্ণয় করে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
সিএ/এমআর


