বর্ষাকালে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রকৃতি যেমন নতুন রূপে সেজে ওঠে, তেমনি অনেকের কাছে পাহাড়ি খাবারও বিশেষ আকর্ষণের বিষয়। পাহাড়ে যাওয়ার সুযোগ না থাকলেও রাজধানীতেই এখন মিলছে সেই স্বাদ। ঢাকার বনানীতে আয়োজন করা হয়েছে পাহাড়ি খাবারের বিশেষ উৎসব, যেখানে দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী পাহাড়ি পদ ও মিষ্টান্ন।
‘পাহাড়ি লাইভ ফুড অ্যান্ড ডেজার্ট কার্নিভ্যাল বাই শান্তিগ্রাম’ শীর্ষক এই আয়োজন চলছে বনানীর শান্তিগ্রাম রেস্তোরাঁয়। রাজধানীর বনানীর ১৩/সি সড়কের ই-ব্লকের ৯৬ নম্বর বাড়িতে অবস্থিত রেস্তোরাঁটি ইতোমধ্যে খাবারপ্রেমীদের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
রেস্তোরাঁটিতে প্রবেশের পরই দর্শনার্থীদের চোখে পড়ে খোলা আকাশের নিচে সাজানো মনোরম বসার ব্যবস্থা। চারপাশে গাছপালা, ফুল ও প্রাকৃতিক পরিবেশের ছোঁয়া পুরো জায়গাটিকে আলাদা আবহ তৈরি করেছে। কাঠের গুঁড়ির নকশায় তৈরি টেবিলগুলোও পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ একটি অভিজ্ঞতা দেয়।
উৎসবে রাখা হয়েছে বিভিন্ন ধরনের পাহাড়ি খাবার। দর্শনার্থীরা ডিম, মুরগি কিংবা সামুদ্রিক উপাদানে তৈরি নানা ধরনের মুংডি স্বাদ নিতে পারবেন। পাশাপাশি রয়েছে থানকুনি পাতা, বাঁশের কঞ্চি, মুরগি বা সামুদ্রিক প্রাণী দিয়ে তৈরি লাকসু।
খাবারের তালিকায় আরও রয়েছে বিন্নি চালের ভাত এবং পাহাড়ি স্বাদের বিভিন্ন পদ। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে রাখা হয়েছে ব্যাম্বু চিকেন। দুইজনের জন্য পরিবেশিত ব্যাম্বু চিকেন মিল উইথ রাইস প্ল্যাটারের সঙ্গে বিনা মূল্যে দুটি লেমোনেডও দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, উৎসবের সব খাবার বনানীর এই রেস্তোরাঁতেই প্রস্তুত করা হচ্ছে। পাহাড়ি খাবারের স্বাদ ও সংস্কৃতির সঙ্গে নগরবাসীকে পরিচয় করিয়ে দেওয়াই এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য।
খাবারের পাশাপাশি ডেজার্টপ্রেমীদের জন্যও রয়েছে নানা আয়োজন। মেনুতে রাখা হয়েছে ম্যাঙ্গো স্টিকি রাইস, বুটের হালুয়া, প্যাড়া সন্দেশ এবং রাবড়ি জিলাপির মতো জনপ্রিয় মিষ্টান্ন।
এ ছাড়া শান্তিগ্রামের নিয়মিত আয়োজনে থাকা ভর্তা, ভাজি, আচার, চাটনি, মিষ্টান্ন, শরবত ও কফিও পাওয়া যাচ্ছে। ফলে দর্শনার্থীরা একই সঙ্গে পাহাড়ি খাবার ও দেশীয় নানা স্বাদের খাবার উপভোগ করতে পারবেন।
রেস্তোরাঁটিতে খোলা জায়গার পাশাপাশি ঘরের ভেতরেও বসার ব্যবস্থা রয়েছে। ফ্যাশন হাউস ‘খুঁত’-এর শোরুম অতিক্রম করে বাড়ির ভেতরের অংশে সাজানো হয়েছে খাবার পরিবেশনের স্থান। ফলে বৃষ্টির দিনে খোলা জায়গায় বসতে না চাইলে ভেতরেও আরামদায়ক পরিবেশে খাবার উপভোগ করা সম্ভব।
আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, এই বিশেষ খাদ্য উৎসব চলবে ২৭ জুন পর্যন্ত। প্রতিদিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত দর্শনার্থীদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে আয়োজনটি।
শান্তিগ্রামের সহপ্রতিষ্ঠাতা বিস্কুট আবির ও সারওয়াত সামিন জানিয়েছেন, তাঁদের উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করায় ফ্যাশন হাউস ‘খুঁত’-এর প্রতি তাঁরা কৃতজ্ঞ। তাঁদের মতে, এই সহযোগিতাই নতুন ধরনের খাদ্যসংস্কৃতির আয়োজনকে আরও বিস্তৃত পরিসরে পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে।
সিএ/এমআর


