যৌন দুর্বলতা, দ্রুত বীর্যপাত, উত্থানজনিত সমস্যা কিংবা যৌন আগ্রহ কমে যাওয়ার মতো বিষয় নিয়ে অনেক পুরুষই উদ্বিগ্ন থাকেন। তবে সামাজিক সংকোচ, লজ্জা এবং সচেতনতার ঘাটতির কারণে অনেকেই চিকিৎসকের শরণাপন্ন না হয়ে কবিরাজি টোটকা, অনিবন্ধিত ভেষজ ওষুধ বা কথিত গোপন চিকিৎসার দিকে ঝুঁকে পড়েন। বিশেষজ্ঞদের মতে, দ্রুত ফল পাওয়ার আশায় নেওয়া এসব পদক্ষেপ অনেক ক্ষেত্রে স্বাস্থ্যের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যৌন সমস্যা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা এখনও সমাজে অনেকাংশে ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত হয়। এই সুযোগে কিছু অসাধু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান ‘১০০ শতাংশ গ্যারান্টিযুক্ত সমাধান’ বা ‘স্বল্প সময়ে শক্তি বৃদ্ধি’র মতো আকর্ষণীয় প্রচারণা চালিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রভাবিত করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ অনিবন্ধিত ভেষজ ও কবিরাজি পণ্যের উপাদান সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায় না। অনেক সময় পণ্যের মোড়কে ব্যবহৃত উপাদানের পূর্ণাঙ্গ তালিকাও উল্লেখ থাকে না। ফলে ব্যবহারকারীরা বুঝতে পারেন না, তারা আসলে কী ধরনের রাসায়নিক বা উপাদান গ্রহণ করছেন।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, কিছু ভেষজ পণ্যের মধ্যে গোপনে রাসায়নিক ওষুধ মিশিয়ে দেওয়া হয়। এসব উপাদান অনিয়ন্ত্রিতভাবে গ্রহণ করলে রক্তচাপের অস্বাভাবিক ওঠানামা, হৃদস্পন্দনের সমস্যা, মাথা ঘোরা এবং অন্যান্য গুরুতর পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, লিভার ও কিডনি মানবদেহে প্রবেশ করা ওষুধ ও রাসায়নিক পদার্থ প্রক্রিয়াজাত করার গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ। দীর্ঘদিন অজানা ভেষজ মিশ্রণ গ্রহণ করলে এসব অঙ্গের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। ফলে সময়মতো সমস্যা শনাক্ত না হলে লিভার ও কিডনির স্থায়ী ক্ষতির আশঙ্কাও তৈরি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, যৌন সমস্যার পেছনে শুধু শারীরিক নয়, মানসিক চাপ, উদ্বেগ, ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, হরমোনজনিত অসামঞ্জস্য কিংবা রক্তনালির বিভিন্ন সমস্যাও দায়ী হতে পারে। কবিরাজি চিকিৎসার ওপর নির্ভর করলে প্রকৃত রোগ নির্ণয় বিলম্বিত হয় এবং মূল সমস্যা আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে।
অনেক ক্ষেত্রে যৌন দুর্বলতা শরীরের অন্য কোনো গুরুতর রোগের প্রাথমিক লক্ষণ হিসেবেও দেখা দিতে পারে। কিন্তু সঠিক চিকিৎসার পরিবর্তে বিকল্প পদ্ধতির ওপর নির্ভর করলে গুরুত্বপূর্ণ রোগ শনাক্তের সুযোগ হারিয়ে যায়।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, কিছু ব্যক্তি দীর্ঘদিন ভেষজ বা টোটকাভিত্তিক চিকিৎসা গ্রহণ করতে করতে মানসিকভাবে এসবের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েন। এতে আত্মবিশ্বাস কমে যায় এবং স্বাভাবিক সক্ষমতা নিয়েও সন্দেহ তৈরি হতে পারে। এর নেতিবাচক প্রভাব দাম্পত্য জীবনেও পড়তে পারে।
অর্থনৈতিক দিক থেকেও এসব চিকিৎসা অনেকের জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিপুল অর্থ ব্যয় করেও কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া যায় না। বরং একের পর এক ওষুধ, কোর্স বা বিশেষ চিকিৎসার নামে রোগীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় করা হয়।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, যৌন সমস্যা দেখা দিলে আতঙ্কিত না হয়ে নিবন্ধিত চিকিৎসক বা যৌনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে সমস্যার প্রকৃত কারণ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা গ্রহণ করাই সবচেয়ে নিরাপদ ও কার্যকর পথ।
তাঁদের মতে, নিয়মিত ব্যায়াম, পর্যাপ্ত ঘুম, ধূমপান ও মাদক থেকে বিরত থাকা, মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস যৌনস্বাস্থ্য উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক ক্ষেত্রে জীবনধারার ইতিবাচক পরিবর্তনই সমস্যার বড় অংশের সমাধান করতে পারে।
সিএ/এমআর


