কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নে কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের তথ্য সংগ্রহ করছিল মেটা। তবে প্রকল্পসংশ্লিষ্ট বিপুল পরিমাণ তথ্য ফাঁস হওয়ার ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটি তাদের এআই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করেছে। ফেসবুক, হোয়াটসঅ্যাপ, ইনস্টাগ্রাম ও থ্রেডসের মূল প্রতিষ্ঠান মেটা ‘মডেল ক্যাপাবিলিটি ইনিশিয়েটিভ’ (এমসিআই) নামের একটি প্রকল্পের আওতায় এই তথ্য সংগ্রহ করছিল।
প্রযুক্তিবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক কর্মী ও চুক্তিভিত্তিক কর্মীদের নিয়ে প্রকল্পটি চালু করা হয়। এর আওতায় কর্মীদের কম্পিউটার ব্যবহারের বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা হতো। এর মধ্যে ছিল মাউসের নড়াচড়া, বিভিন্ন ক্লিকের তথ্য, কিবোর্ডে টাইপ করা বিষয়বস্তু এবং নির্দিষ্ট সময় পরপর কম্পিউটারের পর্দার স্ক্রিনশট।
মেটার লক্ষ্য ছিল, কর্মক্ষেত্রে মানুষ কীভাবে কম্পিউটার ব্যবহার করে সেই আচরণগত তথ্য বিশ্লেষণ করে এআই মডেলকে আরও দক্ষ ও কার্যকরভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া। তবে প্রকল্পটি চালুর পর থেকেই অনেক কর্মী ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ফাঁস হওয়া প্রায় ৪৫ হাজার ফাইলের মধ্যে কর্মীদের এআই প্রম্পট ব্যবহারের তথ্য, বিভিন্ন কথোপকথনের অনুবাদ, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং পরিচয়সংক্রান্ত নানা তথ্য অন্তর্ভুক্ত ছিল। পাশাপাশি কর্মীদের বিভিন্ন ডিজিটাল কার্যক্রম সম্পর্কেও বিস্তারিত তথ্য সেখানে সংরক্ষিত ছিল।
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনায় মেটা এটিকে অভ্যন্তরীণভাবে ‘এসইভি ২’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। প্রতিষ্ঠানটির নিরাপত্তা ঝুঁকি মূল্যায়ন ব্যবস্থায় এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ গুরুতর স্তর হিসেবে বিবেচিত হয়।
মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বোসওয়ার্থ কর্মীদের উদ্দেশে দেওয়া এক বার্তায় স্বীকার করেছেন যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের সময় গোপনীয়তা মূল্যায়নের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। ফলে তথ্য সুরক্ষা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে মেটার মুখপাত্র ট্রেসি ক্লেটন জানিয়েছেন, প্রকল্পটি চালুর সময় গোপনীয়তা সুরক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় রেখে বিভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত কোনো কর্মী অননুমোদিতভাবে এসব তথ্য ব্যবহার করেছেন, এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্যমতে, গত সোমবার প্রথমবারের মতো একটি অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা সতর্কবার্তার মাধ্যমে সমস্যাটি শনাক্ত করা হয়। পরে দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে ত্রুটি সমাধান করা হয়েছে। তবে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে প্রকল্পটির কার্যক্রম আপাতত স্থগিত রাখা হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সিএ/এমআর


