প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে জীবনের প্রথম খিঁচুনি অনেক সময় সাময়িক স্নায়বিক সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে, এমন ঘটনা শরীরে লুকিয়ে থাকা ক্যানসারেরও গুরুত্বপূর্ণ সতর্ক সংকেত হতে পারে। গবেষকদের মতে, প্রথমবার খিঁচুনি হওয়ার পরবর্তী এক বছর রোগীর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়।
ডেনমার্কে প্রায় ৫০ হাজার রোগীর তথ্য বিশ্লেষণ করে পরিচালিত এক বৃহৎ গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের জীবনে প্রথমবার খিঁচুনি হয়েছে, তাদের মধ্যে পরবর্তী ১২ মাসে ক্যানসার শনাক্ত হওয়ার হার সাধারণ মানুষের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
‘জামা নিউরোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় দেখা যায়, পর্যবেক্ষণ করা রোগীদের মধ্যে দুই হাজারেরও বেশি ব্যক্তির ক্ষেত্রে প্রথম খিঁচুনির এক বছরের মধ্যেই ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। গবেষকরা মনে করছেন, অনেক ক্ষেত্রে খিঁচুনি শরীরের ভেতরে চলমান গুরুতর রোগের প্রাথমিক উপসর্গ হিসেবে দেখা দিতে পারে।
গবেষণার ফলাফলে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগের বিষয় ছিল মস্তিষ্কের ক্যানসারের সঙ্গে এর সম্পর্ক। তথ্য অনুযায়ী, যাদের প্রথমবার খিঁচুনি হয়েছে, তাদের মস্তিষ্ক বা স্নায়ুতন্ত্র-সংক্রান্ত ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি সাধারণ মানুষের তুলনায় প্রায় ৭৬ গুণ বেশি।
এ ছাড়া শরীরের অন্যান্য অংশের ক্যানসারের ঝুঁকিও বৃদ্ধি পেতে দেখা গেছে। গবেষকদের হিসাব অনুযায়ী, প্রথম খিঁচুনির পর যেকোনো ধরনের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সামগ্রিক ঝুঁকি প্রায় ৫ গুণেরও বেশি বেড়ে যেতে পারে।
গবেষণায় আরও দেখা গেছে, সবচেয়ে বেশি ঝুঁকি থাকে খিঁচুনির পরবর্তী প্রথম ১২ মাসে। এই সময়ের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগীর স্নায়ুতন্ত্র-সম্পর্কিত এবং অন্যান্য ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে। তবে এক বছর অতিক্রম করার পর ঝুঁকির মাত্রা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রথমবার খিঁচুনি হলে শুধু এটিকে স্নায়বিক সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করলেই যথেষ্ট নয়। এর পেছনে অন্য কোনো জটিল কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
চিকিৎসকরা বলছেন, এমন পরিস্থিতিতে কেবল মস্তিষ্কের সিটি স্ক্যান বা এমআরআই করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। রোগীর প্রয়োজন অনুযায়ী রক্ত পরীক্ষা, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের মূল্যায়ন এবং ক্যানসার স্ক্রিনিংয়ের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
গবেষকদের ভাষ্য, খিঁচুনি নিজে সব সময় কোনো রোগ নয়; বরং এটি অন্য কোনো গুরুতর শারীরিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্ক বয়সে প্রথমবার খিঁচুনি হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করানো জরুরি।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, রোগ সম্পর্কে আগাম সচেতনতা এবং দ্রুত শনাক্তকরণ ক্যানসারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। তাই শরীরের অস্বাভাবিক কোনো সংকেতকে অবহেলা না করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সিএ/এমআর


