বিশ্বজুড়ে সবচেয়ে বেশি শনাক্ত হওয়া ক্যানসারগুলোর মধ্যে কিডনি ক্যানসার অন্যতম। তবে রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের মধ্যে এখনো নানা ধরনের ভুল ধারণা প্রচলিত রয়েছে। অনেকেই মনে করেন, সব কিডনি ক্যানসারের ধরন একই, এটি মূলত বংশগত রোগ অথবা আক্রান্ত হলে পুরো কিডনি অপসারণ ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। চিকিৎসকদের মতে, এসব ধারণার অনেকটাই বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে গত দুই দশকে কিডনি ক্যানসার শনাক্তকরণ ও চিকিৎসা পদ্ধতিতে বড় পরিবর্তন এসেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগটি সম্পর্কে সঠিক তথ্য জানা থাকলে দ্রুত শনাক্তকরণ এবং কার্যকর চিকিৎসা অনেক সহজ হয়।
ভুল ধারণা ১: সব কিডনি ক্যানসার একই ধরনের
আসল তথ্য: কিডনি ক্যানসারের একাধিক ধরন রয়েছে। প্রাপ্তবয়স্কদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি দেখা যায় রেনাল সেল কার্সিনোমা। আবার এর মধ্যেও বিভিন্ন উপধরন রয়েছে, যেগুলোর আচরণ, বিস্তার এবং চিকিৎসা পদ্ধতি একে অপরের থেকে ভিন্ন হতে পারে।
ভুল ধারণা ২: সবার ক্ষেত্রে ঝুঁকি সমান
আসল তথ্য: নির্দিষ্ট কিছু মানুষের মধ্যে কিডনি ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি দেখা যায়। সাধারণত মধ্যবয়সী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের মধ্যে এ রোগ বেশি শনাক্ত হয়। ধূমপান, স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ, দীর্ঘস্থায়ী কিডনি রোগ এবং দীর্ঘমেয়াদি ডায়ালাইসিস ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
ভুল ধারণা ৩: কিডনি ক্যানসার মানেই বংশগত রোগ
আসল তথ্য: অধিকাংশ ক্ষেত্রে কিডনি ক্যানসার বংশগত নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, খুব অল্পসংখ্যক রোগীর ক্ষেত্রে জিনগত কারণ ভূমিকা রাখে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শরীরের কোষে সময়ের সঙ্গে হওয়া পরিবর্তনের ফলেই রোগটি তৈরি হয়।
ভুল ধারণা ৪: নিয়মিত স্ক্রিনিং পরীক্ষা রয়েছে
আসল তথ্য: স্তন ক্যানসার বা কিছু অন্যান্য ক্যানসারের মতো কিডনি ক্যানসারের জন্য সাধারণ জনগণের উদ্দেশ্যে কোনো নিয়মিত স্ক্রিনিং কর্মসূচি নেই। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই অন্য কোনো শারীরিক সমস্যার পরীক্ষা করতে গিয়ে কিডনিতে টিউমার ধরা পড়ে।
ভুল ধারণা ৫: কিডনি ক্যানসার হলে পুরো কিডনি ফেলে দিতে হয়
আসল তথ্য: আধুনিক চিকিৎসাব্যবস্থায় অনেক ক্ষেত্রে আক্রান্ত অংশটুকু অপসারণ করেই চিকিৎসা সম্ভব। টিউমারের আকার, অবস্থান এবং রোগীর শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করে চিকিৎসকরা সিদ্ধান্ত নেন। বর্তমানে অস্ত্রোপচারের পাশাপাশি বিভিন্ন আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতিও ব্যবহৃত হচ্ছে।
ভুল ধারণা ৬: কিডনি ক্যানসার এবং কিডনি রোগ একই বিষয়
আসল তথ্য: এই দুটি সম্পূর্ণ আলাদা সমস্যা। কিডনি রোগ সাধারণত কিডনির কার্যক্ষমতা কমে যাওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত, আর কিডনি ক্যানসার হলো কিডনির কোষের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকে সৃষ্ট টিউমার। তবে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মধ্যে ক্যানসারের ঝুঁকি কিছুটা বেশি থাকতে পারে।
ভুল ধারণা ৭: কিডনি ক্যানসার ছোঁয়াচে
আসল তথ্য: কিডনি ক্যানসার কোনো সংক্রামক রোগ নয়। আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসা, একসঙ্গে বসবাস করা বা খাবার ভাগাভাগি করার মাধ্যমে এই রোগ অন্য কারও শরীরে ছড়ায় না।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগটির লক্ষণ সম্পর্কে সচেতন থাকা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন করা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে কিডনি ক্যানসারের চিকিৎসায় সফলতার সম্ভাবনা অনেক বেশি থাকে।
সিএ/এমআর


