গরমের দিনে এসি ব্যবহার এখন অনেক পরিবারের দৈনন্দিন প্রয়োজন। তবে বিদ্যুৎ বিলের চাপ কমাতে অনেকেই বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে এসি পুরোপুরি বন্ধ করে দেন। বিশেষজ্ঞদের মতে, বিষয়টি সব সময় একইভাবে প্রযোজ্য নয়। বাইরে থাকার সময় ও আবহাওয়ার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এসি ব্যবহারের কৌশল বদলানো যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কেউ যদি মাত্র এক থেকে চার ঘণ্টার জন্য বাইরে যান, তাহলে এসি সম্পূর্ণ বন্ধ করার পরিবর্তে তুলনামূলক উচ্চ তাপমাত্রায় চালু রাখা কিছু ক্ষেত্রে উপকারী হতে পারে। এতে ঘরের তাপমাত্রা স্থিতিশীল থাকে এবং ফিরে এসে ঘর ঠান্ডা করতে এসিকে অতিরিক্ত চাপ নিতে হয় না।
তবে এই পরামর্শ দীর্ঘ সময়ের জন্য প্রযোজ্য নয়। যদি কেউ পুরো দিন বা তার বেশি সময়ের জন্য বাইরে থাকেন, তাহলে এসি বন্ধ রাখাই সবচেয়ে সাশ্রয়ী ও যুক্তিসঙ্গত সিদ্ধান্ত।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘরের ভেতরে দীর্ঘ সময় ধরে তাপ জমে গেলে দেয়াল, আসবাবপত্র ও অন্যান্য উপকরণও তাপ শোষণ করে। পরে এসি চালু করলে শুধু বাতাস নয়, এসব উপকরণ থেকেও তাপ অপসারণ করতে হয়। ফলে যন্ত্রটিকে দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচও বেড়ে যেতে পারে।
এ কারণে স্বল্প সময়ের জন্য বাইরে গেলে এসির তাপমাত্রা ২৬ থেকে ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সেট করে রাখা একটি কার্যকর পদ্ধতি হতে পারে। এতে ঘরের পরিবেশ তুলনামূলক নিয়ন্ত্রিত থাকে এবং ফিরে এসে দ্রুত আরামদায়ক তাপমাত্রা পাওয়া যায়।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য আরও কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। এসি চালু থাকলে দরজা-জানালা বন্ধ রাখা, নিয়মিত ফিল্টার পরিষ্কার করা এবং ঘরে সরাসরি সূর্যের আলো কম প্রবেশের ব্যবস্থা করা বিদ্যুৎ ব্যবহারের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে।
এ ছাড়া অত্যন্ত কম তাপমাত্রা নির্ধারণ করা থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। কারণ তাপমাত্রা যত কম সেট করা হয়, যন্ত্রকে তত বেশি পরিশ্রম করতে হয় এবং বিদ্যুৎ খরচও বাড়ে।
ইনভার্টার প্রযুক্তির এসিগুলো এ ক্ষেত্রে তুলনামূলক বেশি কার্যকর। এসব এসি ঘরের তাপমাত্রা অনুযায়ী স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজের গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। ফলে নির্ধারিত তাপমাত্রা বজায় রাখতে কম বিদ্যুৎ ব্যবহার হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এসির কার্যকর ব্যবহার নির্ভর করে ব্যবহারকারীর অভ্যাস, ঘরের অবস্থা এবং কতক্ষণ বাইরে থাকা হচ্ছে তার ওপর। সঠিক তাপমাত্রা নির্বাচন ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে আরাম বজায় রাখার পাশাপাশি বিদ্যুৎ বিলও নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


