কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তি মানুষের চাকরির জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠবে— এমন আশঙ্কা বিশ্বজুড়ে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। তবে এই ধারণার সঙ্গে একমত নন অ্যামাজনের প্রতিষ্ঠাতা জেফ বেজোস। তার মতে, এআই মানুষের বিকল্প হয়ে উঠবে না; বরং নতুন ধরনের কাজ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ফ্রান্সের প্যারিসে অনুষ্ঠিত একটি প্রযুক্তি সম্মেলনে বক্তব্য দিতে গিয়ে বেজোস বলেন, এআই প্রযুক্তি শ্রমবাজারে নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পরিবর্তে নতুন চাহিদা তৈরি করবে। তিনি মনে করেন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির ফলে মানুষের কাজের ধরন বদলাতে পারে, কিন্তু মানুষের প্রয়োজনীয়তা কমবে না।
এআই নিয়ে উদ্বেগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “আমি জানি অনেক স্মার্ট মানুষসহ অনেকের মধ্যেই এই উদ্বেগ রয়েছে যে এআই মানুষকে অপ্রয়োজনীয় করে তুলবে। আমি এই দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সম্পূর্ণ দ্বিমত পোষণ করি। আমার মনে হয়, এআই আসলে ভবিষ্যতে শ্রমের ঘাটতি তৈরি করবে।”
বেজোসের এই মন্তব্য এমন এক সময়ে এসেছে, যখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান ও নীতিনির্ধারকরা এআইয়ের কারণে কর্মসংস্থানের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করছেন। সম্প্রতি কয়েকজন প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব সতর্ক করে বলেছেন, দ্রুত বিস্তৃত হওয়া এআই প্রযুক্তি বিশেষ করে তরুণদের চাকরির বাজারে চাপ তৈরি করতে পারে।
তবে বেজোসের বিশ্বাস, এআই মানুষের সৃজনশীলতা ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর মাধ্যমে নতুন শিল্প ও সেবাখাতের জন্ম দেবে। তিনি বলেন, মানুষের মেধা ও সক্ষমতার ঘাটতি নেই, বরং কিছু সীমাবদ্ধতা রয়েছে যা প্রযুক্তির সাহায্যে দূর করা সম্ভব।
আলোচনায় তিনি তার নতুন এআইভিত্তিক উদ্যোগ ‘প্রমিথিউস’-এর কথাও উল্লেখ করেন। উৎপাদন খাতে দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য নিয়ে প্রকল্পটি কাজ করছে। তার মতে, ভবিষ্যতের শিল্পখাতে মানুষ ও এআই একসঙ্গে কাজ করবে।
প্রযুক্তি সম্মেলনে বেজোস মহাকাশ গবেষণা নিয়েও নিজের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, পৃথিবীর বাইরে মানবসভ্যতার বিস্তারের জন্য চাঁদ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেখানে স্থায়ী উপস্থিতি গড়ে তোলার লক্ষ্য নিয়েই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
তার ভাষায়, “আমরা চাঁদে শুধু বেড়াতে যাচ্ছি না, সেখানে স্থায়ীভাবে থাকার জন্য যাচ্ছি।”
তিনি আরও জানান, তড়িৎবিশ্লেষণ প্রযুক্তি ব্যবহার করে চাঁদের সম্পদ থেকে জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হতে পারে, যা ভবিষ্যতের মহাকাশ অভিযানে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করবে।
এ সময় ব্লু অরিজিনের সাম্প্রতিক রকেট পরীক্ষার ব্যর্থতার বিষয়টিও আলোচনায় উঠে আসে। গত মে মাসে একটি পরীক্ষামূলক উৎক্ষেপণের সময় প্রতিষ্ঠানটির রকেট দুর্ঘটনার শিকার হয়। তবে এতে কেউ আহত হয়নি এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোও বড় ক্ষতির মুখে পড়েনি বলে জানান বেজোস।
অন্যদিকে সম্মেলনের অন্যতম আকর্ষণ ছিল মানবসদৃশ রোবট ও মস্তিষ্কের সংকেত ব্যবহার করে সেগুলো নিয়ন্ত্রণের প্রযুক্তি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব উদ্ভাবন ভবিষ্যতে স্বাস্থ্যসেবা, উৎপাদনশিল্প ও সেবাখাতে মানুষ ও যন্ত্রের সমন্বিত কাজের নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।
সূত্র: বিবিসি
সিএ/এমআর


