বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও তথ্য বিশ্লেষণের কাজে আরও উন্নত সহায়তা দিতে নতুন একটি বিশেষায়িত সেবা তৈরির কাজ করছে ওপেনএআই। ‘চ্যাটজিপিটি ফর সায়েন্স’ নামে পরিচিত হতে যাওয়া এই উদ্যোগটি মূলত বিজ্ঞানী, গবেষক এবং গবেষণা প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজন মাথায় রেখে তৈরি করা হচ্ছে বলে প্রযুক্তি অঙ্গনে আলোচনা চলছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন তথ্য অনুযায়ী, চ্যাটজিপিটির ওয়েব সংস্করণের কোডে নতুন এই সেবার কিছু ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। যদিও এটি এখনো পরীক্ষামূলক ও উন্নয়ন পর্যায়ে রয়েছে, তবুও প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের ধারণা, ভবিষ্যতে গবেষণার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বর্তমানে ওপেনএআই ব্যক্তি, দল এবং প্রতিষ্ঠানভিত্তিক বিভিন্ন সাবস্ক্রিপশন সুবিধা দিয়ে থাকে। একই ধরনের কাঠামো অনুসরণ করে ‘চ্যাটজিপিটি ফর সায়েন্স’ বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণাগার এবং অনুমোদিত গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষভাবে চালু হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিজ্ঞানভিত্তিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা উন্নয়নে ওপেনএআইয়ের আগ্রহ নতুন নয়। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি গবেষণা ও লাইফ সায়েন্স খাতের জন্য বিশেষভাবে তৈরি একটি উন্নত মডেল উন্মোচন করেছে, যা জটিল বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ এবং বৃহৎ গবেষণা প্রকল্পে সহায়তা দিতে সক্ষম। বর্তমানে সেই প্রযুক্তি সীমিত পরিসরে নির্দিষ্ট গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে গবেষকদের জন্য উন্নত বিশ্লেষণ, তথ্য যাচাই, বৈজ্ঞানিক তথ্য-উপাত্ত প্রক্রিয়াকরণ এবং গবেষণার জটিল ধাপগুলো আরও সহজ করা সম্ভব হবে। একই সঙ্গে নতুন আবিষ্কার ও উদ্ভাবনের গতি বাড়াতেও এটি সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
গবেষণা ক্ষেত্রে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করতে হয়। অনেক সময় তথ্য সংগ্রহ, বিশ্লেষণ ও ফলাফল মূল্যায়নে দীর্ঘ সময় ব্যয় হয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক বিশেষায়িত প্ল্যাটফর্ম এসব কাজের গতি বাড়িয়ে গবেষকদের মূল গবেষণার দিকে আরও বেশি মনোযোগ দেওয়ার সুযোগ করে দিতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
যদিও ওপেনএআই এখনো ‘চ্যাটজিপিটি ফর সায়েন্স’ নিয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেয়নি এবং এর সম্ভাব্য উন্মোচনের তারিখও প্রকাশ করা হয়নি, তবুও প্রযুক্তি খাতের পর্যবেক্ষকদের ধারণা, গবেষণা জগতে এআই ব্যবহারের নতুন এই অধ্যায় খুব শিগগিরই বাস্তবে রূপ নিতে পারে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, গবেষণার জটিল সমস্যার সমাধান, তথ্য বিশ্লেষণ এবং নতুন বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ক্ষেত্রে এ ধরনের প্রযুক্তি ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে।
সিএ/এমআর


