আধুনিক জীবনের চাপ ও ব্যস্ততা মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের ওপর গভীর প্রভাব ফেলছে। দীর্ঘদিন ধরে এই চাপ অব্যাহত থাকলে উদ্বেগ, অনিদ্রা, হজমজনিত সমস্যা ও উচ্চ রক্তচাপের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই সুস্থ থাকতে স্নায়ুকে শিথিল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, শরীর যখন দীর্ঘ সময় ‘ফাইট অর ফ্লাইট’ অবস্থায় থাকে, তখন স্ট্রেস হরমোন কর্টিসলের মাত্রা বেড়ে যায়। এই অবস্থার পরিবর্তনে কিছু সহজ অভ্যাস কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রথমত, গভীর শ্বাসপ্রশ্বাসের অভ্যাস স্নায়ুকে দ্রুত শান্ত করে। ‘৪-৭-৮’ পদ্ধতিতে ৪ সেকেন্ড শ্বাস নেওয়া, ৭ সেকেন্ড ধরে রাখা এবং ৮ সেকেন্ডে ছাড়ার মাধ্যমে শরীরকে শিথিল করা সম্ভব।
দ্বিতীয়ত, সঠিক পুষ্টি গ্রহণ গুরুত্বপূর্ণ। ম্যাগনেশিয়ামসমৃদ্ধ খাবার যেমন কাঠবাদাম, কলা ও পালংশাক স্নায়ুর উত্তেজনা কমাতে সহায়তা করে। পাশাপাশি ভিটামিন বি কমপ্লেক্স স্নায়ুর সুস্থতায় ভূমিকা রাখে।
তৃতীয়ত, পর্যাপ্ত ঘুম ও ডিজিটাল ডিটক্স জরুরি। ঘুমানোর আগে এক ঘণ্টা স্ক্রিন থেকে দূরে থাকলে স্নায়ুতন্ত্র বিশ্রাম পায় এবং ঘুমের মান উন্নত হয়।
চতুর্থত, প্রকৃতির সান্নিধ্য ও নিয়মিত হাঁটা কর্টিসলের মাত্রা কমায়। যোগব্যায়াম বা ধ্যান মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
পঞ্চমত, অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও চিনি গ্রহণ সীমিত করা উচিত। এর পরিবর্তে ভেষজ চা বা পানি পান স্নায়ুকে স্থিতিশীল রাখতে সহায়তা করে।
ছোট ছোট এই অভ্যাসগুলো দৈনন্দিন জীবনে যুক্ত করলে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখা সহজ হয়।
সিএ/এমআর


