পৌরাণিক কাহিনিতে বর্ণিত ভয়ংকর সামুদ্রিক দানব ‘ক্র্যাকেন’-এর গল্প বহুদিন ধরেই মানুষের কৌতূহল জাগিয়েছে। বিশাল শুঁড় দিয়ে জাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার মতো ক্ষমতার এই দানবকে অনেকেই কল্পকাহিনি বলে ভাবলেও সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বাস্তবেও একসময় সাগরে ঘুরে বেড়াত এমনই অতিকায় অক্টোপাস।
প্রায় ১০ কোটি বছর আগে, ক্রেটাসিয়াস যুগে, যখন স্থলভাগে ডাইনোসরদের আধিপত্য ছিল, তখন সাগরের গভীরে রাজত্ব করত এই বিশাল আকৃতির অক্টোপাস। গবেষণায় দেখা গেছে, এদের দৈর্ঘ্য প্রায় ৬৫ ফুট পর্যন্ত হতো, যা প্রায় ছয়তলা ভবনের সমান। আকারে তারা সমসাময়িক অনেক সামুদ্রিক সরীসৃপকেও ছাড়িয়ে গিয়েছিল এবং খাদ্যশৃঙ্খলের শীর্ষে অবস্থান করত।
অক্টোপাসের শরীরে হাড় না থাকায় তাদের জীবাশ্ম সংরক্ষণ নিয়ে দীর্ঘদিন প্রশ্ন ছিল। তবে বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, তাদের মুখের ভেতরের শক্ত চোয়ালই এই রহস্যের সমাধান দিয়েছে। পাখির ঠোঁটের মতো এই চোয়াল পচে না গিয়ে সাগরের তলদেশে দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষিত থাকে, যা থেকে তাদের অস্তিত্বের প্রমাণ পাওয়া গেছে।
জাপান ও কানাডার ভ্যাঙ্কুভার দ্বীপ থেকে সংগৃহীত এসব জীবাশ্ম বিশ্লেষণ করে গবেষকেরা জানতে পেরেছেন, এই অক্টোপাসগুলো ‘সিরাটা’ উপগোষ্ঠীর সদস্য। আধুনিক স্ক্যানিং প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় তাদের দেহগঠন পুনর্গঠন করা হয়েছে।
গবেষণায় আরও জানা যায়, এরা শুধু বড়ই ছিল না, ছিল অত্যন্ত বুদ্ধিমানও। চোয়ালের এক পাশ বেশি ক্ষয়প্রাপ্ত হওয়ায় ধারণা করা হচ্ছে, তারা নির্দিষ্ট পাশ ব্যবহার করে শিকার ধরত—যা উন্নত স্নায়ুতন্ত্রের ইঙ্গিত দেয়। একই সঙ্গে তাদের আক্রমণাত্মক আচরণের প্রমাণও পাওয়া গেছে।
এই আবিষ্কার প্রমাণ করে, সাগরের ভয়ংকর শিকারি হতে মেরুদণ্ড থাকা জরুরি নয়। বিশাল আকার, শক্তিশালী চোয়াল ও উন্নত বুদ্ধিমত্তাই তাদের আধিপত্যের মূল কারণ ছিল।
সূত্র: সায়েন্স ডটকম ও পপুলার সায়েন্স
সিএ/এমআর


