মানুষ ও প্রকৃতির সম্পর্ককে ইসলামে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পৃথিবীতে মানুষের ভূমিকা শুধু ভোগ নয়, বরং দায়িত্বশীলভাবে তা সংরক্ষণ ও উন্নয়ন করা—এমন ধারণাই তুলে ধরা হয়েছে।
ইবনে আব্বাস (রা.)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে, আল্লাহ মানুষকে পৃথিবীর সম্পদ ব্যবহারের সক্ষমতা দিয়েছেন, তবে সেই সঙ্গে দায়িত্বও আরোপ করেছেন। এই দায়িত্বের মধ্যে রয়েছে পরিবেশ রক্ষা ও ভারসাম্য বজায় রাখা।
প্রকৃতির সম্পদ ব্যবহারে মিতব্যয়িতা, দূরদর্শিতা এবং সঠিক আচরণের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। উদ্ভিদ, প্রাণী ও পরিবেশের প্রতিটি উপাদানের প্রতি যত্নশীল হওয়ার নির্দেশনা রয়েছে ইসলামে।
মহানবী (সা.) উদ্ভিদের প্রতি গভীর মমতা প্রদর্শন করতেন। তিনি গাছের জন্য দোয়া করতেন এবং এর পরিচর্যায় উৎসাহ দিতেন। এমনকি নিজ হাতে গাছ রোপণের মাধ্যমে তিনি এই কাজের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন।
হাদিসে এসেছে, “যদি কোনো মুসলিম একটি গাছ রোপণ করে অথবা শস্য বপন করে, আর তা থেকে কোনো পাখি, মানুষ কিংবা জীবজন্তু আহার করে, তবে সেটি তার জন্য ‘সদকা’ হিসেবে গণ্য হবে।”
এছাড়া যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতেও গাছপালা ধ্বংস না করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পরিবেশের প্রতি এই দৃষ্টিভঙ্গি ইসলামে বিশেষভাবে গুরুত্ব পেয়েছে।
বর্তমান সময়ে জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ দূষণের প্রেক্ষাপটে এই শিক্ষাগুলো আরও প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


