বিশ্ববিদ্যালয়জীবন শেষ হওয়ার পর হঠাৎ করে জীবনে শূন্যতা ও অনিশ্চয়তার যে অনুভূতি তৈরি হয়, সেটিকেই বলা হয় কোয়ার্টার লাইফ ক্রাইসিস। অনেক তরুণ-তরুণী এই সময় জীবনের লক্ষ্য, ক্যারিয়ার এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর দুশ্চিন্তায় ভোগেন।
একজন শিক্ষার্থী দীর্ঘ সময় নির্দিষ্ট রুটিনের মধ্যে থাকেন। ক্লাস, পরীক্ষা, বন্ধুদের সঙ্গে সময়—সবকিছু মিলিয়ে একটি পরিচিত জীবনধারা গড়ে ওঠে। কিন্তু পড়াশোনা শেষ হওয়ার পর সেই পরিচয় হঠাৎ করেই বদলে যায়। তখন সামনে আসে চাকরি, উচ্চশিক্ষা বা ক্যারিয়ার গঠনের কঠিন বাস্তবতা।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে চাকরির বাজারে তীব্র প্রতিযোগিতা, অভিজ্ঞতার অভাব এবং দক্ষতার ঘাটতি এই সংকটকে আরও বাড়িয়ে দেয়। অনেক ক্ষেত্রে নেটওয়ার্কিং বা পরিচিতির অভাবও চাকরি পাওয়ার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। ফলে তরুণদের মধ্যে হতাশা ও মানসিক চাপ বাড়ে।
এ সময় সামাজিক চাপও বড় ভূমিকা রাখে। পরিবার ও আত্মীয়দের কাছ থেকে ‘চাকরি কবে’ ধরনের প্রশ্ন অনেককে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলে। ফলে অনেকেই ধীরে ধীরে নিজেকে গুটিয়ে নেন এবং সামাজিক যোগাযোগ কমিয়ে দেন।
মনোবিজ্ঞানীদের মতে, এই সময় আত্মবিশ্বাস কমে যাওয়া, নিজের যোগ্যতা নিয়ে সন্দেহ তৈরি হওয়া এবং ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়া স্বাভাবিক। অনেকেই ‘ইমপোস্টার সিনড্রোম’-এ ভোগেন, যেখানে নিজের অর্জনগুলোকে তুচ্ছ মনে হয়।
এই পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে দক্ষতা উন্নয়ন, ইন্টার্নশিপ, পার্টটাইম কাজ এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি নেটওয়ার্কিং বৃদ্ধি এবং ইতিবাচক মানসিকতা বজায় রাখাও গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


