লক্ষ্মীপুর-৪ (রামগতি-কমলনগর) আসনের সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান বলেছেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ থেকে ২০০ বিলিয়ন ডলার লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। এত বিপুল অর্থ পাচার হওয়ায় বড় বাজেট প্রণয়ন করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মঙ্গলবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে কমলনগর উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়নের ইসলামগঞ্জ বাজার এলাকায় খাল খনন কাজ পরিদর্শন উপলক্ষে আয়োজিত এক দোয়া অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের সময়ে ব্যাপক অর্থ পাচারের ফলে বর্তমান সরকারকে নতুন করে সবকিছু শুরু করতে হচ্ছে। “আমি আমার রামগতি-কমলনগরের মানুষকে বলতে চাই, শূন্য থেকে আমরা শুরু করতে চাই। আমি তো জাতীয় সংসদের হুইপ। আমার রুম থেকে (আগের সরকারের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তি) ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। সব পালাই চলে গেছে।”
তিনি আরও বলেন, “আজকে সারা বিশ্বে একধরনের যুদ্ধ চলছে। এ যুদ্ধ তো আমরা লাগাইনি। হাওরে পানি উঠছে। এ পানিও তো আমরা দেইনি। এটি আল্লাহ পাকের ফয়সালা। আমাদের দায়িত্ব সাধ্য অনুযায়ী সহায়তা করা। আমাদের সরকার সহায়তা করার চেষ্টা করছে। যুদ্ধ বন্ধ হয়ে গেলে আপনাদের অবস্থা আরো ভাল হয়ে যাবে। যার যেটা দরকার সব কিছুর ব্যবস্থা হয়ে যাবে।”
দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রসঙ্গে হুইপ আশরাফ বলেন, “কিন্তু ঘুষ-দুর্নীতি করা যাবে না। মানুষের সাথে খারাপ আচরণ করা যাবে না।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. রাহাত-উজ-জামানের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদুল আলম, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) পরিতোষ কুমার বিশ্বাস, উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুল হুদা চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক এম. দিদার হোসেন এবং কমলনগর প্রেসক্লাবের আহ্বায়ক মুছাকালিমুল্লাহসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
তিনি আরও বলেন, “আমি এমপি হই বা না হই, আমাকে হুইপ রাখুক বা না রাখুক, আমি কিন্তু হকের কথা বলব, ইনসাফের কথা বলব। আমি এ কথা সংসদেও বলেছি। আমি কারো চোখের দিকে তাকাই কথা বলি না। আমরা যুদ্ধ করে ফ্যাসিস্ট তাড়িয়েছি। রাব্বুল আলামিন আমাদেরকে আগেও ঠেকায়নি, ভবিষ্যতেও ঠেকাবেনা, কারণ এটা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের দল, বেগম খালেদ জিয়া ও তারেক রহমানের দল।”
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, “আপনার চাকরির জন্য আমি ইউএনও-সচিবের পা ধরব। ব্যবসা করার জন্য ব্যাংক লোনের প্রয়োজন হলে আমি সে ব্যবস্থাও করব। কিন্তু আপনি দুর্নীতি করবেন, ঘুষ খাবেন, এলাকায় মাস্তানি করবেন, গুণ্ডামি করবেন, মানুষের সঙ্গে খারাপ আচরণ করবেন, চাঁদাবাজি করবেন—তাহলে আপনার সঙ্গে আমি নেই। আমরা কাজ করে ভাত খাব। হালাল খাব। গরিব মানুষগুলো আমাদেরকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় নিয়েছে। তাদেরকে মাথার ওপরে রাখতে হবে। তাদের সঙ্গে আচরণ ভালো করতে হবে।”
প্রধানমন্ত্রীর জন্য দোয়া চেয়ে তিনি বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে মন্ত্রীরা দেখা করতেও কষ্ট হয়। কিন্তু আল্লাহ তায়ালা আমাকে এমন যায়গায় বসাইছে, সকাল বিকাল সবসময় দেখা হয়। উনি প্রটোকল চায়না, সাদাসিধা চলাফিরা করেন। উনি প্রধানমন্ত্রী হয়েও ক্যান্টিনের ভাত খান। প্রটোকল চাড়া চলাফিরা করেন। কোন প্রটোকল নেই। হিংসা অহংকার নেই। আল্লাহ তায়ালা তাকে হায়াত বাড়িয়ে দেক। প্রয়োজনে আমার হায়াতও আল্লাহ তায়ালা তাকে দিয়ে দেক। আমি মন থেকে দোয়া করছি। আল্লাহ তায়ালাকে হাজির নাজির জেনে বলতেছি।”
সিএ/এমই


