চোখে দৃশ্যমান কোনো সমস্যা না থাকলে অনেকেই পরীক্ষা করানোর প্রয়োজন মনে করেন না। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চোখের অনেক রোগ প্রাথমিক পর্যায়ে লক্ষণহীন থাকায় নিয়মিত পরীক্ষা না করলে তা জটিল রূপ নিতে পারে।
চোখের কিছু রোগ, যেমন গ্লুকোমা, ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট করে, কিন্তু শুরুতে তেমন কোনো উপসর্গ দেখা যায় না। ফলে নিয়মিত পরীক্ষা না করলে রোগটি শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে।
দৃষ্টিশক্তির পরিবর্তন যেকোনো বয়সেই ঘটতে পারে। সময়মতো পরীক্ষা না করলে ছোটখাটো সমস্যা বড় আকার ধারণ করতে পারে। বিশেষ করে যারা চশমা ব্যবহার করেন, তাদের ক্ষেত্রে নিয়মিত চেকআপ দৃষ্টিশক্তির স্থিতি বজায় রাখতে সহায়তা করে এবং চোখের চাপ বা মাথাব্যথা কমাতে সাহায্য করে।
শিশুদের ক্ষেত্রে দৃষ্টিজনিত সমস্যা শিক্ষাজীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। তাই জন্মের পর থেকেই নির্দিষ্ট সময় পরপর চোখ পরীক্ষা করা জরুরি। স্কুলগামী শিশুদের প্রতিবছর অন্তত একবার চোখ পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দেওয়া হয়।
বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ছানি, ম্যাকুলার ডিজেনারেশন ও গ্লুকোমার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে। নিয়মিত পরীক্ষার মাধ্যমে এসব রোগ প্রাথমিক অবস্থায় শনাক্ত করে চিকিৎসা নেওয়া সম্ভব।
ডায়াবেটিস ও উচ্চ রক্তচাপের মতো দীর্ঘমেয়াদি রোগও চোখের ওপর প্রভাব ফেলে। এ ধরনের রোগীদের বছরে অন্তত এক বা দুইবার রেটিনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। এতে ডায়াবেটিক বা হাইপারটেনসিভ রেটিনোপ্যাথি দ্রুত শনাক্ত করা যায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়স ও শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে নির্দিষ্ট সময় পরপর চোখ পরীক্ষা করা উচিত, যাতে দৃষ্টিশক্তি দীর্ঘদিন সুস্থ রাখা যায়।
সিএ/এমআর


