শরীরচর্চার সবচেয়ে সহজ ও জনপ্রিয় উপায়গুলোর একটি হলো হাঁটা। নিয়মিত হাঁটা হৃদ্স্বাস্থ্য ভালো রাখা, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ এবং মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন গবেষণায়ও হাঁটার বহুমুখী উপকারিতা উঠে এসেছে।
গবেষণায় দেখা গেছে, সপ্তাহে অন্তত তিন দিন হাঁটলে কোমরব্যথা ফিরে আসার ঝুঁকি কমতে পারে। এছাড়া প্রতিদিন ১০ হাজার কদম হাঁটা হৃদ্রোগের ঝুঁকি কমানোর সঙ্গেও সম্পর্কিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু হাঁটলেই ওজন দ্রুত কমে যাবে—এমন ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। ক্যালরি বার্ন ও ওজন কমাতে খাদ্যাভ্যাস নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস গড়ে তুলতে হয়।
গড় হিসাবে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিক গতিতে এক ঘণ্টা হাঁটলে প্রায় ২৫০ ক্যালরি পর্যন্ত পোড়াতে পারেন। তবে এটি বয়স, ওজন, গতি ও হাঁটার পরিবেশের ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হতে পারে।
বেশি ক্যালরি ক্ষয়ের জন্য বিশেষজ্ঞরা কয়েকটি কৌশল অনুসরণের পরামর্শ দিয়েছেন। প্রথমত, হাঁটার দূরত্ব বাড়াতে হবে। যত বেশি সময় বা দূরত্ব হাঁটা হবে, তত বেশি শক্তি ব্যয় হবে।
দ্বিতীয়ত, হাঁটার গতি বাড়ানো জরুরি। ধীরগতির হাঁটা হালকা ব্যায়াম হলেও দ্রুত হাঁটা মাঝারি মাত্রার ব্যায়ামে পরিণত হয়, যা হৃদ্যন্ত্র ও ফুসফুসের জন্য বেশি কার্যকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, ঘণ্টায় প্রায় ৫ কিলোমিটার গতিকে মাঝারি মাত্রার হাঁটা হিসেবে ধরা যায়।
তৃতীয়ত, হাঁটাকে কিছুটা চ্যালেঞ্জিং করা যেতে পারে। যেমন, হাত দোলানো, অসমান পথে হাঁটা বা বাতাসের বিপরীতে হাঁটা শরীরকে বেশি পরিশ্রম করায়।
উঁচু বা ঢালু পথে হাঁটলে ক্যালরি খরচ আরও বাড়ে। গবেষণায় দেখা গেছে, ৫ শতাংশ ঢালু পথে হাঁটলে শক্তি খরচ ১৭ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
সাম্প্রতিক সময়ে ‘রাকিং’ নামের একটি ফিটনেস ট্রেন্ডও জনপ্রিয় হচ্ছে। এতে মানুষ ওজনযুক্ত ব্যাগ বা ভেস্ট পরে হাঁটে, যা শরীরের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করে এবং বেশি ক্যালরি পোড়াতে সহায়তা করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত হাঁটার সঙ্গে গতি, দূরত্ব ও কৌশলে সামান্য পরিবর্তন আনলেই এটি আরও কার্যকর ব্যায়ামে পরিণত হতে পারে।
সিএ/এমআর


