ইসলামে এতিমদের প্রতি সহমর্মিতা, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচারের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। পবিত্র কোরআন ও হাদিসে এতিমদের প্রতি সদাচরণ, সম্পদ রক্ষা এবং লালন-পালনের বিষয়ে একাধিক নির্দেশনা রয়েছে।
পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন, ‘তিনি কি আপনাকে এতিম হিসেবে পাননি? অতঃপর তিনি আশ্রয় দিয়েছেন।’ (সুরা দুহা, আয়াত: ৬)। পরবর্তী আয়াতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘সুতরাং আপনি এতিমের প্রতি কঠোর হবেন না।’ (সুরা দুহা, আয়াত: ৯)।
ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, এতিমদের বিশেষ যত্নের কারণ হলো তারা পারিবারিক সুরক্ষার একটি গুরুত্বপূর্ণ স্তম্ভ হারিয়ে ফেলে। ফলে তাদের প্রতি অবিচার বা অবহেলা সমাজে গভীর প্রভাব ফেলতে পারে।
আরবি ভাষায় ‘ইউতাম’ শব্দের অর্থ বিচ্ছিন্ন বা একাকী। শরিয়তের পরিভাষায় যার পিতা মারা গেছে, তাকে এতিম বলা হয়। সাবালক হওয়ার পর এই পরিচয় আর বহাল থাকে না।
ইসলামের শেষ নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) নিজেও এতিম হিসেবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। তিনি জন্মের আগেই পিতাকে হারান, পরে শৈশবে মা ও দাদাকেও হারান।
কোরআনে এতিমের সম্পদ রক্ষায়ও কঠোর নির্দেশনা রয়েছে। বলা হয়েছে, ‘আর তোমরা এতিমের সম্পদের কাছেও যেয়ো না, তবে উৎকৃষ্ট পন্থায় যেতে পারো।’ (সুরা আনআম, আয়াত: ১৫২)।
এছাড়া অন্যায়ভাবে এতিমের সম্পদ ভোগকারীদের জন্য কঠোর শাস্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘আমি এবং এতিম লালন-পালনকারী ব্যক্তি জান্নাতে এই দুটির মতো থাকব।’ তিনি এ কথা বলে শাহাদাত ও মধ্যমা আঙুল দিয়ে ইঙ্গিত করেন। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৯৮৩)
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু খাদ্য বা আশ্রয় নয়, এতিমদের মানসিক নিরাপত্তা, শিক্ষা ও পারিবারিক ভালোবাসা নিশ্চিত করাও জরুরি।
বর্তমান সমাজে এমন অনেক শিশু রয়েছে, যাদের বাবা-মা জীবিত থাকলেও পর্যাপ্ত সময় বা যত্নের অভাবে তারা মানসিকভাবে বঞ্চিত হয়ে পড়ে। লেখক এটিকে ‘জীবন্ত এতিম’ হিসেবে ব্যাখ্যা করেছেন।
সমাজে মানবিকতা ও ভারসাম্য বজায় রাখতে এতিমদের জন্য নিরাপদ, স্নেহপূর্ণ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
সিএ/এমআর


