গিরগিটি দেখতে অনেকের কাছেই ভীতিকর মনে হয়, বিশেষ করে এর হঠাৎ রং বদলানোর কারণে। অনেক সময় দেখা যায়, একটি নিরীহ গিরগিটি হঠাৎ করে লাল রঙ ধারণ করছে। এ দৃশ্য দেখে অনেকের মনে ধারণা জন্মেছে যে, গিরগিটি নাকি অন্য প্রাণী বা মানুষের রক্ত চুষে নেয়। এমনকি লোকমুখে শোনা যায়, গিরগিটি মানুষের শরীর থেকেও দূর থেকে রক্ত শুষে নিতে পারে। তবে এসব ধারণার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গিরগিটি কখনোই রক্তপায়ী প্রাণী নয়। এদের প্রধান খাদ্য বিভিন্ন ধরনের কীটপতঙ্গ, যেমন ফড়িং, ঝিঁঝি পোকা, মাকড়সা ও মশা। গিরগিটির শরীরে এমন কোনো অঙ্গ বা কাঠামো নেই, যার মাধ্যমে তারা রক্ত চুষতে পারে। রক্তপানকারী প্রাণীদের সাধারণত বিশেষ ধরনের দাঁত বা চোষক থাকে, যা দিয়ে তারা ত্বক ভেদ করে রক্ত গ্রহণ করে। গিরগিটির ক্ষেত্রে এমন কোনো বৈশিষ্ট্য দেখা যায় না।
গিরগিটি শিকার ধরার জন্য লম্বা ও আঠালো জিভ ব্যবহার করে, যা দূর থেকে পোকামাকড় ধরতে উপযোগী। এই জিভ দিয়ে রক্ত চোষা সম্ভব নয়। তাছাড়া এদের দাঁতও ত্বক ছিদ্র করার মতো শক্তিশালী নয়। ফলে মানুষের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া তো দূরের কথা, অন্য কোনো প্রাণীর রক্তও তারা পান করতে পারে না।
গিরগিটির রং পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে একটি জৈবিক প্রক্রিয়া। তাদের ত্বকের নিচে ক্রোমাটোফোরস নামে বিশেষ কোষ থাকে, যা পরিবেশ, ভয় বা প্রজনন আচরণের প্রভাবে সক্রিয় হয়ে ওঠে। তখন রক্তসঞ্চালন বাড়ে এবং শরীরের রং পরিবর্তিত হয়। বিশেষ করে পুরুষ গিরগিটি স্ত্রী গিরগিটিকে আকর্ষণ করতে মাথা ও ঘাড় লাল করে তোলে।
গিরগিটি সাধারণত মানুষের জন্য ক্ষতিকর নয়। তবে চরম বিপদে পড়লে হালকা কামড় দিতে পারে, যা খুবই সামান্য এবং বিষাক্ত নয়। বরং গিরগিটি পরিবেশের জন্য উপকারী, কারণ তারা ক্ষতিকর পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ভুল ধারণা ও ভয় থেকে অনেক সময় মানুষ গিরগিটিকে হত্যা করে, যা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। তাই এ বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সিএ/এমআর


