পায়ুপথের বিভিন্ন রোগ বর্তমানে অনেক মানুষের জন্য অস্বস্তি ও ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইলস, অ্যানাল ফিসার এবং ফিস্টুলা পায়ুপথের সবচেয়ে পরিচিত রোগগুলোর মধ্যে অন্যতম। এসব সমস্যার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কাজ করে দীর্ঘদিনের কোষ্ঠকাঠিন্য, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ এবং অনিয়মিত জীবনযাপন।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, পাইলস বা অর্শ রোগে মলদ্বার কিংবা এর ভেতরের অংশের শিরা ফুলে গিয়ে মাংসপিণ্ডের মতো আকার ধারণ করে। এ অবস্থায় মলত্যাগের সময় উজ্জ্বল লাল রঙের রক্তপাত হতে পারে।
অন্যদিকে অ্যানাল ফিসার হলো মলদ্বারের চারপাশের চামড়ায় ক্ষুদ্র ফাটল সৃষ্টি হওয়া। সাধারণত শক্ত মল অথবা অতিরিক্ত চাপ দিয়ে মলত্যাগের কারণে এ সমস্যা দেখা দেয়। এতে তীব্র ব্যথা, জ্বালাপোড়া এবং অস্বস্তি অনুভূত হয়।
ফিস্টুলা ও অ্যাবসেসের ক্ষেত্রে মলদ্বারের ভেতরের গ্রন্থিতে সংক্রমণ হয়ে পুঁজ জমে যায়। পরে সেই পুঁজ ফেটে গিয়ে নালির মতো পথ তৈরি করতে পারে, যা দীর্ঘমেয়াদি জটিলতার কারণ হয়ে ওঠে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব রোগ প্রতিরোধে খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় পর্যাপ্ত আঁশযুক্ত খাবার যেমন শাকসবজি, ফলমূল এবং সালাদ রাখা উচিত। এসব খাবার মলকে নরম রাখতে সহায়তা করে এবং কোষ্ঠকাঠিন্যের ঝুঁকি কমায়।
পর্যাপ্ত পানি পানও সমানভাবে জরুরি। প্রতিদিন অন্তত দুই থেকে তিন লিটার পানি পান করলে হজমপ্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে এবং মলত্যাগ সহজ হয়। কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা থাকলে রাতে ঘুমানোর আগে পানির সঙ্গে ইসবগুলের ভুসি খাওয়া উপকারী হতে পারে।
মলত্যাগের ক্ষেত্রে নিয়মিত অভ্যাস গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকেরা। প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে টয়লেটে যাওয়ার অভ্যাস করা, মলত্যাগের বেগ চেপে না রাখা এবং অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকা প্রয়োজন। দীর্ঘ সময় টয়লেটে বসে থাকাও এ ধরনের সমস্যার ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পায়ুপথে ব্যথা বা অস্বস্তি হলে ঘরোয়া পরিচর্যার অংশ হিসেবে সিজ বাথ উপকারী হতে পারে। এ ক্ষেত্রে কুসুম গরম পানিতে সামান্য লবণ মিশিয়ে ১০ থেকে ১৫ মিনিট কোমর ডুবিয়ে বসে থাকলে ব্যথা ও অস্বস্তি কিছুটা কমতে পারে।
পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মলত্যাগের পর মলদ্বার ভালোভাবে পরিষ্কার ও শুকনো রাখলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমে যায়।
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেন, পায়ুপথের সমস্যায় অনেকেই বিভিন্ন টোটকা বা কবিরাজি চিকিৎসার আশ্রয় নেন। এতে রোগ নিরাময়ের পরিবর্তে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। তাই লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
চিকিৎসকদের মতে, মলত্যাগের সময় অতিরিক্ত রক্তপাত, অসহ্য ব্যথা কিংবা মলদ্বারে বড় ধরনের মাংসপিণ্ড দেখা দিলে দেরি না করে কলোরেক্টাল সার্জনের শরণাপন্ন হওয়া প্রয়োজন।
সিএ/এমআর


