দৈনন্দিন জীবনে সিঁড়ি ভাঙা, দ্রুত হাঁটা কিংবা সামান্য শারীরিক পরিশ্রমের সময় অনেকেই হাঁপিয়ে ওঠেন বা শ্বাস নিতে কষ্ট অনুভব করেন। বেশিরভাগ মানুষ এটিকে ক্লান্তি, বয়স বৃদ্ধি, ওজন বেড়ে যাওয়া কিংবা শারীরিক সক্ষমতা কমে যাওয়ার স্বাভাবিক ফল বলে মনে করেন। তবে চিকিৎসা বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, কিছু ক্ষেত্রে এই শ্বাসকষ্টই হতে পারে গুরুতর হৃদরোগ বা ফুসফুসজনিত সমস্যার প্রাথমিক লক্ষণ।
হৃদরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, শ্বাসকষ্টের সমস্যা অনেক সময় ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ফলে রোগী নিজেই বুঝতে পারেন না যে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা আগের তুলনায় কমে যাচ্ছে। আগে যে দূরত্ব সহজে হাঁটা যেত, এখন সেখানে কষ্ট হচ্ছে বা সিঁড়ি ব্যবহার না করে লিফটের ওপর নির্ভরতা বাড়ছে—এ ধরনের পরিবর্তনকে অবহেলা করা উচিত নয়।
গবেষণায় দেখা গেছে, যাদের দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্ট বা ডিসপনিয়ার সমস্যা রয়েছে, তাদের হৃদরোগ বা ফুসফুসজনিত জটিলতায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের উপসর্গ শরীরের ভেতরে চলমান কোনো বড় সমস্যার ইঙ্গিত দিতে পারে।
চিকিৎসকদের ভাষ্য অনুযায়ী, হৃদযন্ত্রের বিভিন্ন জটিলতা শ্বাসকষ্টের কারণ হতে পারে। হৃদপিণ্ডের ধমনিতে চর্বি জমে রক্ত চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে শরীর পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না, ফলে শারীরিক পরিশ্রমের সময় শ্বাস নিতে কষ্ট হয়। আবার হার্টের ভালভে সমস্যা দেখা দিলে রক্ত সঞ্চালনের স্বাভাবিক প্রক্রিয়া ব্যাহত হয় এবং রোগী সহজেই ক্লান্ত হয়ে পড়েন।
এ ছাড়া অনিয়মিত হৃদস্পন্দনও শ্বাসকষ্টের একটি কারণ হতে পারে। হৃদস্পন্দনের স্বাভাবিক ছন্দ নষ্ট হলে হৃদপিণ্ডের কার্যকারিতা কমে যায়। একইভাবে হৃদপেশি দুর্বল হয়ে গেলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে পর্যাপ্ত রক্ত সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে, যার ফলে শ্বাসকষ্ট দেখা দেয়।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নারীদের ক্ষেত্রে হৃদরোগের উপসর্গ অনেক সময় পুরুষদের তুলনায় ভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। বুকে তীব্র ব্যথা না থাকলেও শ্বাসকষ্ট, অস্বস্তি বা বমি বমি ভাব হৃদরোগের গুরুত্বপূর্ণ লক্ষণ হতে পারে। তাই এসব উপসর্গকে অবহেলা করা উচিত নয়।
কিছু পরিস্থিতিতে দ্রুত চিকিৎসা গ্রহণ করা জরুরি। হঠাৎ তীব্র শ্বাসকষ্ট শুরু হলে, ঘুমের মধ্যে দমবন্ধ হয়ে জেগে উঠলে, শুয়ে থাকলে শ্বাস নিতে সমস্যা হলে অথবা ঠোঁট ও নখ নীলচে হয়ে গেলে তা জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করতে পারে।
চিকিৎসকদের মতে, শরীরের ছোটখাটো পরিবর্তনগুলোকে বয়স বা ক্লান্তির অজুহাতে উপেক্ষা না করে গুরুত্বের সঙ্গে দেখা উচিত। কারণ উপসর্গের শুরুতেই সমস্যার কারণ শনাক্ত করা গেলে জটিলতা কমানো এবং দ্রুত চিকিৎসা শুরু করা সম্ভব হয়।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, শ্বাসকষ্ট অনেক সময় শরীরের একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা। তাই দীর্ঘদিন ধরে বা ক্রমাগত এ ধরনের সমস্যা অনুভূত হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ পদক্ষেপ।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
সিএ/এমআর


