বর্তমান সময়ে সুদমুক্ত ঋণ পাওয়া অনেক ক্ষেত্রেই কঠিন হয়ে উঠেছে। ইসলামি অর্থব্যবস্থায় এমন ঋণকে ‘কর্জে হাসানা’ বলা হয়, যা মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি ও সওয়াব লাভের উদ্দেশ্যে কোনো ধরনের শর্ত বা অতিরিক্ত সুবিধা ছাড়াই কাউকে প্রদান করা হয়।
ইসলামি শরিয়তে কর্জে হাসানাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক ও মানবিক ব্যবস্থা হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এর মাধ্যমে সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা, সহমর্মিতা এবং অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা সহজ হয়। পবিত্র কোরআনের বিভিন্ন আয়াতে কর্জে হাসানার ফজিলত ও গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে।
মহান আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় দানশীল নর-নারী, যারা আল্লাহকে উত্তমরূপে ধার দেয়, তাদের দেয়া হবে বহুগুণ। তাদের জন্য রয়েছে সম্মানজনক পুরস্কার। (সুরা হাদিদ, আয়াত: ১৮)
মহান আল্লাহ বলেন, কে সে, যে আল্লাহকে উত্তম ঋণ দেবে? আল্লাহ তার জন্য একে বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন। আর আল্লাহই (জীবিকা) কমান বা বাড়ান। আর তোমাদের তারই কাছে ফিরিয়ে নেয়া হবে। (সুরা বাকারা, আয়াত: ২৪৫)
পবিত্র কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘তোমরা নামাজ কায়েম করো, জাকাত দাও আর আল্লাহকে দাও কর্জে হাসানা। তোমাদের আত্মার মঙ্গলের জন্য তোমরা যা কিছু ভালো আগে পাঠাবে, পরিবর্তে তোমরা তার চেয়ে আরও ভালো ও বড় পুরস্কার পাবে আল্লাহর কাছ থেকে। আর তোমরা ক্ষমা প্রার্থনা করো, আল্লাহর কাছে। আল্লাহ তো ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা মুজ্জাম্মিল, আয়াত: ২০)
আরেক আয়াতে মহান আল্লাহ বলেন, যদি তোমরা আল্লাহকে উত্তম ঋণ দাও, তিনি তোমাদের জন্য তা বহুগুণে বাড়িয়ে দেবেন, আর তিনি তোমাদের ক্ষমা করবেন। আল্লাহ তো গুণগ্রাহী, সহিষ্ণু। (সুরা তাগাবুন, আয়াত: ১৭)
ইসলামি শিক্ষায় ঋণগ্রহীতার ওপর সময়মতো ঋণ পরিশোধের দায়িত্বও গুরুত্বের সঙ্গে আরোপ করা হয়েছে। প্রকৃত প্রয়োজন ছাড়া ঋণ গ্রহণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে এবং অপচয় কিংবা অন্যায় কাজে ঋণ নেওয়া থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সুদবিহীন ঋণ সমাজে অর্থনৈতিক সহায়তা ও মানবিক সম্পর্ক জোরদার করতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। অন্যদিকে সুদভিত্তিক ঋণ ইসলামি বিধান অনুযায়ী হারাম এবং তা থেকে দূরে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


